চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যানের ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখবে বিএফআইইউ

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই রোগীদের সনদ প্রদানসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট (বিএফআইইউ)।

সংস্থাটির প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী কোনও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রিপোর্ট থাকলে বা কারও ব্যাপারে তথ্যের দরকার হলে আমরা ব্যাংক হিসাব তলব করি। রিজেন্ট হাসপাতালের মালিকের ব্যাংক হিসাবও আইন মেনে তলব করা হয়েছে।’

দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের নির্বাহী প্রধানদের কাছে এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে।

এরপর ৭ জুলাই রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় দণ্ডবিধি ৪০৬/৪১৭/৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/২৬৯ ধারায় প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে এক নম্বর আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। সাহেদসহ ৯ জন পলাতক রয়েছেন।

ওইদিন রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক চুক্তি (এমওইউ) বাতিলসহ অবিলম্বে হাসপাতালটির সব কার্যক্রম বাতিল এবং সিলগালা করার নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, হাসপাতালটি করোনার নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে দিত রোগীদের। সরকারের সঙ্গে হাসপাতালটির চুক্তি ছিল করোনায় আক্রান্ত ভর্তি রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার। সরকার এ ব্যয় বহন করবে। কিন্তু তারা রোগীপ্রতি লাখ টাকার বেশি বিল আদায় করেছে। অথচ রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে এই মর্মে সরকারের কাছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি বিল জমা দিয়েছে।

রিজেন্ট হাসপাতাল এ পর্যন্ত প্রায় ২শ জন করোনায় আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে বলে জানিয়েছে।