চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রিজার্ভ আম্পায়ারের ইশারায় মাঠ ছেড়েছিলেন রাজাপাক্সে

চট্টগ্রাম থেকে: ৪ রান যোগ করতে পারলেই ভানুকা রাজাপাক্সে পেয়ে যেতেন টি-টুয়েন্টি সংস্করণে নিজের প্রথম শতক। সেটি হাতছাড়া হওয়ার পরও কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের শ্রীলঙ্কান ওপেনারের আক্ষেপ থাকল সামান্যই। ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসটা যে ভাগ্যক্রমে পাওয়া উপহার!

ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে ব্যক্তিগত ২১ রানের মাথায় ক্যাচ তুলে দিয়ে রাজাপাক্সে ফিরেছিলেন ড্রেসিংরুমে। টিভি আম্পায়ার বলটি ‘নো’ কল করায় সুযোগ আসে আবারও ব্যাটিং করার। পরে কুমিল্লার ইনিংস শেষ করেই মাঠ ছাড়েন। ৯৬ রানে অপরাজিত থাকেন এ বাঁহাতি।

ম্যাচ শেষে রাজাপাক্সে জানান রীতি অনুযায়ী ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে বাউন্ডারি সীমানায় দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন। তখন রিজার্ভ আম্পায়ারের কথাতেই নাকি চলে গিয়েছিলেন ড্রেসিংরুমে।

‘আউট দেয়া হয়েছিল এবং আমি বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম, চতুর্থ আম্পায়ার যেতে বলেছিলেন ড্রেসিংরুমে। পরে ক্রিজে ফিরে আসাটা ছিল দারুণ উপহার। যতটা কাজে লাগানো যায় সে চেষ্টা করেছি।’

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুপুরের ম্যাচে কুমিল্লার সংগ্রহ তখন ৪০/২। ওয়াহাব রিয়াজের করা ইনিংসের পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে রাজাপাক্সে ক্যাচ তুলে দেন ডিপস্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে থাকা মেহেদী হাসানের হাতে।

বিজ্ঞাপন

ইয়াসির আলি রাব্বি নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে আসেন ক্রিজে। তাকে ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে হয় আরেকটা ডেলিভারি হওয়ার আগেই। কেননা তৃতীয় আম্পায়ার মোর্শেদ আলি খান সুমন টিভি রিপ্লে দেখে জানিয়ে দেন ওয়াহাবের আগের ডেলিভারিতে ওভারস্টেপিং হয়েছে।

নো-বল কল করা হলে রাজাপাক্সে ফিরে আসেন ক্রিজে। এ লঙ্কান ঘুরিয়ে দেন কুমিল্লার ইনিংসের মোড়। খেলেন ৬৫ বলে ৯৬ রানের অনবদ্য ইনিংস। তাতে দল পায় ১৬১ রানের পুঁজি।

মারকুটে ওপেনার রাজাপাক্সে আবার ক্রিজে ফেরায় হতাশা বাড়ছিল ঢাকার খেলোয়াড়দের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত রান তাড়া করে দল জেতায় হয়ত হতাশা কেটে গেছে। সেই ক্যাচটি নেয়া মেহেদী খেলা শেষে জানান সেসময় কী কাজ করছিল তাদের ভেতর।

‘এটা অবশ্যই হতাশাজনক ছিল। কারণ ও(রাজাপাক্সে) অনেক মারতে পারে, স্ট্রোক খেলতে পারে। ও চলে যাওয়ার পর আবার ফেরত আসছে। তখন একটু মন খারাপ হচ্ছিল। শেষে আরও ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম কারণ ও সেট হয়ে একাই মারছিল। একাই একপ্রান্ত কাভার করে ফেলেছে। তখন একটু নার্ভাস ছিলাম।’

‘তারপর আবার দাসুন শানাকা ছিল। ও ভালো মারতে পারে। এখানকার উইকেটের জন্য ও খুবই বিপজ্জনক। একপ্রান্ত দিয়ে ইয়াসির আলী বল-টু-বল খেলেছে, আর ও স্ট্রোক খেলেছে। এই জন্য হয়তো জেতার মতো স্কোরে ওদের আটকাতে পেরেছি।’

বিজ্ঞাপন