চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রিজার্ভের নতুন মাইলফলকে দেশ

বাংলাদেশের রিজার্ভ এখন ৪০ বিলিয়ন ডলার

রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় ও বিদেশি ঋণের বাড়ার কারণে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে একের পর এক রেকর্ড হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দেশের ইতিহাসে রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্য নিশ্চিত করে বলছে, এই রিজার্ভ দিয়ে আগামী ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

ব্যাংকখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়ায় বৈধপথে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয়ের চাপ কম থাকা, দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও জাইকার বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং বিশ্ব সংস্থার অনুদানের কারণে রিজার্ভ বেড়েছে।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই সময় প্রবাসীরা দেশে ৬৭১ কোটি ৩১ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, তা গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের মোট রেমিট্যান্সের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।

বিজ্ঞাপন

অবৈধ পথে রেমিট্যান্স আসা বন্ধ করতে সরকার গত অর্থবছরে রেমিট্যান্সের ওপর ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল। এরপর থেকেই বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা অব্যাহত রয়েছে। এ কারণেই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে গত জুলাই মাসে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল প্রবাসীরা, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে এ বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। তাদের পাঠানো এই রেমিট্যান্সের অবদান জিডিপিতে প্রায় ১২ শতাংশ।

রপ্তানি আয়ও রয়েছে ভাল অবস্থানে। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন (এক হাজার কোটি) ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে আরও বেশি, যার পরিমাণ ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

জুলাই মাসে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩৯১ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে এর পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ৩ মাসে মোট ৯৮৯ কোটি ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে এখান থেকে প্রকল্প ঋণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি একনেক বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।