চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার ২০১৮ পেলো ইনসেপ্টা’সহ ১৯ প্রতিষ্ঠান  

রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার-২০১৮ পেয়েছে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসহ দেশের ১৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্পখাতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ চতুর্থবারের মতো পরিচ্ছন্ন ব্যবসায়ীদের এই পুরস্কার দিয়েছে সরকার।

সোমবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি উপস্থিত থাকেননি। তাঁর পরিবর্তে পুরস্কার দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্প সচিব কে এম আলী আজম।

অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য চতুর্থবারের মতো এই আয়োজন। মানুষ ভালো কাজের স্বীকৃতি চায়। সরকারও ভালো উদ্যোক্তাকে কাজের স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের এই স্বীকৃতি দেয়া হলো।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত অর্থনীতির চালিকা শক্তি। এ শিল্পকে গুরুত্ব দিয়েই শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, যারা পরিচ্ছন্নভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, নিয়মিত ভ্যাট-ট্যাক্স দিচ্ছেন, নিয়মিত গ্যাস বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দিচ্ছেন তাদেরকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনাকালিন সময় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা সচল রাখতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। তাই সবার প্রতি আহ্বান জানাই সিন্ডিকেট মুক্ত হয়ে আপনারা ব্যবসা পরিচালনা করুন।

সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব ধরণের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, তাই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কোন কারণ নেই।

বিজ্ঞাপন

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ একটি কঠিন সময় পার করেছে। নতুন করে আরেকটি শিল্প সহায়তা নীতি আসছে। শিল্পের দ্রুত বিকাশের লক্ষ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রামমুখী ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

চতুর্থবারের এই আয়োজনে ২০১৮ সালের জন্য বৃহৎ শিল্প ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ। ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল দ্বিতীয় পুরস্কার এবং যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও এনার্জিপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।

মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে তাফরিদ কটন মিলস লিমিটেড। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে যৌথভাবে অকো টেক্স লিমিটেড ও শেলটেক টেকনোলজি লিমিটেড। এনভয় ফ্যাশন লিমিটেড পেয়েছে তৃতীয় পুরস্কার।

ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে কনসেপ্ট নিটিং লিমিটেড। এপিএস ডিজাইন ওয়ার্ক দ্বিতীয় ও সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেড তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে তিনটি পুরস্কার পেয়েছে যথাক্রমে- ট্রিম টেক্স বাংলাদেশ, মাসকো ওভারসিজ এবং ক্রিমসন রোসেলা সী ফুড লিমিটেড।

কুটির শিল্প ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্ট বিডি, দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে ইন্টেলিজেন্ট কার্ড লিমিটেড ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে রূপকথা কুটির শিল্প উন্নয়ন সংস্থা।

হাইটেক শিল্প ক্যাটাগরিতে দুটি পুরস্কারের মধ্যে প্রথমটি পেয়েছে সার্ভিস ইঞ্জিন ও দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে মেটাটুড এশিয়া লিমিটেড।

প্রতিবছর জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্পখাতে অবদানের স্বীকৃতি প্রদান, প্রণোদনা সৃষ্টি এবং সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতে রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার প্রদান সংক্রান্ত নির্দেশনাবলী ২০১৩-এর আলোকে এ পুরস্কার দেয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে একটি ট্রফি বা ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন