চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাম রহিমের তদন্ত বন্ধে চাপ সহ্য করতে হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও

ডেরা সাচ্চা সৌদা’র প্রধান কথিত ধর্মীয় গুরু গুরমিত রাম রহিম সিং দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের দায়ে অবশেষে ২০ বছর কারাদণ্ড পেয়েছে। কিন্তু এই পর্যন্ত পৌঁছাতে তদন্তদল, এমনকি তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে কী পরিমাণ চাপ সইতে হয়েছে তা প্রকাশ করেছেন মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা এম নারায়ণান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কর্মকর্তা জানান, মনমোহন সিং তদন্ত চলাকালে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা প্রদেশের বহু সংসদ সদস্যের কাছ থেকে ব্যাপক চাপের মুখে ছিলেন যেন এ ব্যাপারে যেন বেশি উচ্চবাচ্য না হয়।

তবে সেসব বাধা আর চাপের মুখেও তদন্তকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) পক্ষেই থেকেছেন তিনি।

সিবিআইয়ের অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি নারায়ণান আরও জানান, কাজ করার সময় কীভাবে বারবার রাম রহিম সিংয়ের ভক্ত-সমর্থকদের হুমকি আর শত্রুতার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে এবং তার দলকে।

‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সিবিআইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন আইন মোতাবেক এগিয়ে যেতে,’ বলেন প্রধান তদন্তকারী নারায়ণান, ‘বিচারকের আগে তিনি নিজেই ওই দুই সাধ্বীর জবানবন্দী পড়ে দেখেছিলেন এবং পাঞ্জাব আর হরিয়ানার এমপিদের প্রবল চাপেও ভেঙ্গে পড়েননি। তখনকার সিবিআই প্রধান বিজয় শঙ্করকে নিজের অফিসে ডেকে তিনি রাম রহিমের মামলা নিয়ে আলোচনা করেন। ধর্ষণের শিকার নারীদের জবানবন্দী পড়ার পর তিনি আমাদেরকেই সমর্থন দেন।’

রাম রহিম সিং-এম নারায়ণান
এম নারায়ণান

একই সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি সিরসায় অবস্থিত ডেরা সাচ্চা সৌদা আশ্রমের ক্যাম্পাস এবং তার ভেতর রাম রহিমের জীবনযাপনের অনেক কিছুই তুলে ধরেছেন।

বিজ্ঞাপন

‘তার ব্যক্তিগত ঘরে কনডমসহ নানা ধরণের জন্মনিয়ন্ত্রণ দ্রব্যের সংগ্রহ ছিল। সে একটা উন্মাদ, প্রকৃত জানোয়ার,’ নিউজ ১৮-কে বলেন এম নারায়ণান।

তিনি জানান, ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সময়টাতে যৌন হয়রানির কারণে দু’শর মতো নারী ডেরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু সিবিআই এদের মাত্র ১০ জনকে খুঁজে পেয়েছে। এদের মধ্য থেকে অবশেষে সিবিআই মাত্র দু’জনকে আম্বালার একটি আদালতে চার্জশিট দাখিলের জন্য রাজি করাতে সফল হয়।

সাক্ষাৎকারে জানানো হয়, ডেরা আশ্রম এলাকার ভেতর প্রাসাদের মতো ভবনে রাম রহিম বসবাস করত মধ্যযুগীয় রাজার মতো। ওই প্রাসাদকে বলা হতো বাবার ‘গুহা’। সবসময়ই তার আশপাশে নারী ভক্তরা (সাধ্বী) ঘিরে থাকত।

নারায়ণান জানান, প্রতিদিন রাত ১০টার দিকে রাম রহিম ফোন করে প্রধান সাধ্বীকে বলত ‘গুরু’র সঙ্গে ঘুমানোর জন্য একজন কমবয়সী নারী ভক্তকে পাঠাতে।রাম রহিম সিং-এম নারায়ণান

২৫ আগস্ট ধর্ষণের মামলায় রাম রহিম সিংকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করার পর থেকেই তার সমর্থকরা হরিয়ানা-পাঞ্জাব জুড়ে ব্যাপক সহিংসতা শুরু করে। সহিংসতায় ৩৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আড়াইশ’রও বেশি মানুষ।

এরপর কড়া নিরাপত্তায় সোমবার সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত হরিয়ানার রোহতাক কারাগারের ভেতরেই দুই ধর্ষণের অভিযোগে ১০ বছর করে মোট ২০ বছরের কারাভোগের শাস্তি দেন।

রাম রহিম দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরই ডেরা ক্যাম্পাস থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৮ কিশোরীকে উদ্ধার করে বের করে নিয়ে আসে পুলিশ। তাদের সবার মেডিক্যাল পরীক্ষা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে ডেরা সাচ্চা সৌদা’র সাবেক ম্যানেজার রণজিৎ সিং এবং স্থানীয় সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতিকে হত্যার মামলা চলছে।

বিজ্ঞাপন