রাম রহিমের ডেরা সাচ্চা সৌদা: চোখ ধাঁধানো রাজকীয়তা

চ্যানেল আই অনলাইন এর চোখ ধাঁধানো রাজকীয় দৃষ্টিনন্দন ডেরা, যা দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
রাম রহিমের হরিয়ানা প্রদেশের ডেরা সাচ্চা সৌদা-র প্রধান কার্যালয় ছিলো তার সকল শক্তি ও সম্পদের আধার। সেখানে গড়ে তুলেছেন তিনি স্বপ্নের রাজ্য। একটা সাত তারকা হোটেল, স্কাইবারসহ রিসোর্ট, আইফেল টাওয়ারের আদলে তৈরি টাওয়ার, তাজমহল, সিনেমা হল, শপিং মল, আন্তর্জাতিক মানের স্কুল, হাসপাতাল, ফার্মেসিসহ আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা আছে রাম রহিম সিং এর ডেরা প্রধান কার্যালয়ে।
এখানে অবস্থিত সকল ভবনগুলোতে রাম রহিমের ছবি দিয়ে সুসজ্জিত করে সাজানো। তার নিজস্ব ঢংয়ের বিভিন্ন অঙ্গ-ভঙ্গি ছবি দিয়ে ধর্মীয় অনুসারীদের জন্য দেয়ালগুলো সাজানো।
ডেরা সাচ্চা সৌদা একটি সামাজ কল্যাণমুলোক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে ১৯৪৮ সালে নির্মাণ করা হয়। রাম রহিম এই ডেরা ক্যাম্পাসের দায়িত্ব নেন ১৯৯০ সালে। সমগ্র ভারত এবং ভারতের বাইরেও এই ধর্মের অনুসারী প্রায় ৫০ মিলিয়ন।
রাম রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার দুই সপ্তাহ পর বুধবার তার এই সাম্রাজ্যে পুলিশ তল্লাশি চালায়। দুই নারীকে ধর্ষণের দায়ে তাকে আদালত অভিযুক্ত করে ১০ বছরের রায় ঘোষণা করার পর হরিয়ানা, পাঞ্জাব প্রদেশে তার অনুসারীদের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারায় এবং ২৫০ জন আহত হন।
ডেরার ৮০০ একরের এই ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ করতো পিংক ম্যানশন থেকে। এই পিংক ম্যানশনে রাম রহিম সপরিবারে বসবাস করে আসছিলো। পিংক ম্যানশনের ভেতরের গুহায় ছিলো তার অপকর্মের নিরাপদ জায়গা। এই গুহায় ধর্মীয় গুরু হিসাবে ধর্ষণ করতেন তিনি। পরে একজন নারী ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
এই পিংক ম্যানশনে রাম রহিমের স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলে এখনো বসবাস করছে। ডেরার আরেক জন ধর্মীয় গুরু রাম রহিমের পালক মেয়েকে পুলিশ খুঁজছে। মাহি সিনেমা হল যেখানে রাম রহিমের সিনেমা চলতো পুলিশ তা বন্ধ করে দিয়েছে। ডেরা স্কুল থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে যেতে পুলিশ তাদের বাবা মাকে অনুরোধ জানিয়েছে।
ডেরা সাচ্চা সৌদা ২০১৩ সালে রক্তদান করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। ভেতরে গড়ে তুলেছেন হাসপাতাল , মেয়েদের জন্য হোস্টেল, যৌনকর্মীদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র।



