চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ফারিয়া শাহরিন

২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছিল ফারিয়া শাহরিন অভিনীত সিনেমা ‘আকাশ কত দূরে’। ওই ছবিতে ‘পরী’ নামে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ফারিয়া। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও সরকারী অনুদানে নির্মিত ছবিটি সে বছর দারুণ প্রশংসিত হয়। শুধু তাই, জুলফিকার রাসেলের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপে এবং সামিয়া জামানের পরিচালনায় ‘আকাশ কত দূরে’ ছবির মাধ্যমে ফারিয়া নতুন পরিচয়ে পরিচিত হন।

ওই ছবিটি মুক্তির পরেই ফারিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন কলকাতার ছবির সুপারহিট নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী। যিনি তখনই চিরদিনই তুমি যে আমার, চ্যালেঞ্জ, দুই পৃথিবী, শত্রু, বোঝেনা সে বোঝেনা, কানামাছি, প্রলয় ইত্যাদি ছবিগুলো সেই সময়ে নির্মাণ করে আলোচনার শীর্ষে ছিলেন। কলকাতার প্রথম সারির নায়িকা-প্রযোজকরা তখন রাজ চক্রবর্তীর দরজায় লাইন ধরেছিলেন ছবি করার জন্য।

রাজ চক্রবর্তী ২০১৪ সালে ওই সময় লাক্সতারকা ফারিয়া শাহরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তার ছবির নায়িকা বানানোর জন্য। এমনকি তিনি নিজেই ফারিয়াকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু ফারিয়া সেই সুবর্ণ সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এমন মজার তথ্য চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন ফারিয়া। রোববার সন্ধ্যায় ফারিয়া বলেন, ২০১৪ সালে আমার অভিনীত আকাশ কত দূরে ছবিটি মুক্তির পরেই রাজ চক্রবর্তী তার সহকারীকে দিয়ে আমার কাছে ফোন করান।

ফারিয়া

ফারিয়া আরও বলেন, তারপর আমার সঙ্গে রাজ চক্রবর্তী নিজেই কথা বলেন। জানান, তিনি আমার ছবি দেখেছেন, পছন্দ করেছেন। তার পরের ছবিতে আমাকে নায়িকা হিসেবে নিতে চান। সেজন্য কলকাতা ডাকেন, গিয়ে লুক টেস্ট করার কথা বলেন। কিন্তু আমি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেই। ফারিয়া বলেন, আমি জানতামই না তখন ওই নামে কোনো পরিচালক আছেন কলকাতায়। সরাসরি তাকে বলি, আমি তো আপনাকে চিনি না।

আর রাজ চক্রবর্তী নামের কোনো পরিচালক আছে বলে আমার জানা নেই। তারপর উনি কিছুটা আনইজি ফিল করেন, অবাকও হন! এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। পড়ে এটা আমার বন্ধুদের সঙ্গে ব্যাপারটা শেয়ার করি, তারা আমাকে বকা দিয়েছিল। বলেছিল, কেন এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করলাম। পরে এটা মনে পড়ে খারাপ লেগেছিল! আমি আসলেই তাকে তখন চিনতে পারিনি। কারণ আমি তখন কলকাতার ছবি দেখতাম না।

এদিকে, কিছুদিন আগে একটি গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যের কারণে মিডিয়ার অনেক সহকর্মীর দ্বারা তোপের মুখে পড়েছেন ফারিয়া। একে অন্যের কাদা ছোঁড়াছুড়িতে জড়িয়েছেন। ফারিয়ার বক্তব্য, আমি তো কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলিনি। আমি নিজেই যেসব তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি সেগুলোই বলেছি।

আমি বাজে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলে অনেকদিন কাজ বন্ধ করে রাখতাম। সেজন্য কাজের সংখ্যা কম। মানুষ আমার পিছনে লাইন ধরেছে কাজ করানোর জন্য, কিন্তু আমি করিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ২০টির মতো নাটকে কাজ করেছি। এরমধ্যে মাহফুজ আহমেদ, সাফায়েত মুনসুর রানা, চয়নিকা চৌধুরী, কৌশিক সংকর দাসের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছি। কই তাদের থেকে তো তিক্ত অভিজ্ঞার মুখোমুখি হইনি। আমার কাজ দেখে মাহফুজ তালি দিয়েছিলেন। আমার সমস্যা হয়েছে, গুটিকয়েক খারাপ মানুষের জন্য আমি নিজেকে সরিয়ে রেখেছি। নিজেই ভালো কাজ থেকে বঞ্চিত হয়েছি।

ফারিয়া বলেন, আমি তো সবাইকে খারাপ বলিনি। সবাই যদি খারাপ হত তাহলে আজ (আতঙ্ক) যে নাটকটিতে কাজ করছি, সেটা কীভাবে করতাম? সবাই কোনোদিনও খারাপ না। ওই গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে আমি বোঝাতে চেয়েছি, যারা আমাকে জ্বালাতন করে তারা যেন আমাকে না জ্বালায়। শিল্পী হিসেবে কাজ করব পারিশ্রমিক নেব তারপর চলে যাব। অনেকেই বাজে কথা হজম করতে পারে, আমি পারিনা।

ওই গণমাধ্যমে সাক্ষাতকারটি প্রকাশের পরেই ফারিয়াকে নিয়ে হৈ-চৈ পড়ে গেছে। ছোটপর্দার নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সংগঠন থেকে ফারিয়াকে জানায়, যাদের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ নামগুলো লিখিতভাবে দিয়ে অভিযোগ করতে। ফারিয়া বলেন, আমি কাদের নাম বলব? যাদের কাছ থেকে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে তারা তো মিডিয়া, রাজনৈতিক অঙ্গনের বিগ শর্ট! আমি অভিযোগ করলে তখন আমার নিরাপত্তা কে দেবে?

ফারিয়া বলেন, আমি গুটিকয়েক মানুষকে বলেছি, কিন্তু হয়ে গেলাম সবার শত্রু! অনেকেই মিডিয়ায় এই তিক্ত অভিজ্ঞতা ফেস করে, কিন্তু কেউ মুখ ফুটে বলে না। কেউ কারো নাম বলতে চায় না। সবাই মিডিয়াতে কাজ করতে চায়। আমি মুখ খুলেছি কারণ, একজনকে তো আওয়াজ তুলতে হবে নাকি? নইলে এগুলো কীভাবে বন্ধ হবে?

আমি চাইনি নেগেটিভ ভাবে এগুলো মানুষের মাঝে আসুক। মানুষ আমার দিকে এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে বুঝবি। যারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদের নিজেদের অতীত বাজে। আমি ওপেন চ্যালেঞ্জ করছি প্রমাণ করেন আমাকে নিয়ে একটা বাজে রিউমার। এরপর পালটা কেউ উত্তর দেয়নি। এখন এটা নিয়ে আমার পরিবার থেকে রীতিমত সালিশ বসছে। আমি কি ফেস করছি এটাই বলেছি। আমার পরিবার থেকে অনেক বকাঝকা করেছে।

আগামীতে কাজের সুস্থ পরিবেশ পেলে নতুন করে সিনেমায় কাজ করতে চান ফারিয়া। নায়ক হিসেবে তার প্রথম পছন্দ আরিফিন শুভ। ফারিয়া বলেন, শুভকে দেখলেই মনে হয় নায়ক। সে অনেক ভালো কাজ করছে।আমি মনে করি তার সঙ্গে আমাকে ভালো মানাবে।বাকি যারা আছেন তারাও ভালো! তবে নিজেই পছন্দের তালিকায় শুভকেই এগিয়ে রাখবো। আর যদি সিনেমায় কাজ করতে হয় তবে নিজেকে শারীরিকভাবে ফিট করে আসবো।

২৮ জানুয়ারি ফারিয়া আবার ফিরে যাবে মালয়েশিয়ায়। সেখানে গিয়ে মনোযোগী হবেন লেখাপড়ায়। হাতেগোনা যে কদিন তিনি দেশে আছেন বাকিগুলো তার ব্যস্ততায় কাটবে বলে জানান। আগামী জুন মাস নাগাদ ফারিয়া আবার দেশে ফিরবেন।

ছবি- জীবন আহমেদ

বিজ্ঞাপন