চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজস্থানেও নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস

ভারতজুড়ে চলমান বিক্ষোভ-আন্দোলনের মুখে এবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে  তৃতীয় রাজ্য হিসেবে প্রস্তাব পাস করেছে রাজস্থান।

কংগ্রেস শাসিত রাজস্থানের বিধান সভায় শনিবার এ প্রস্তাব পাস করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে কেরালা এবং পাঞ্জাবে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস করা হয়। রাজস্থানের বিধানসভা ভবনে ওই প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখান কয়েকজন বিজেপি বিধায়ক।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি সংসদ কর্তৃক প্রণীত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ধর্মের ভিত্তিতে অবৈধ অভিবাসীদের আলাদা করার লক্ষ্যে কাজ করেছে।’

সংবিধানে বর্ণিত ধর্মনিরপেক্ষ ধারণাগুলির সাথে ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের এই ধরনের বৈষম্য সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি স্পষ্টভাবে ১৪ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘনকারী বলে উল্লেখ করা হয় ওই প্রস্তাবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ‘দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একটি আইন করা হয়েছে যা ধর্মীয় ভিত্তিতে মানুষকে বিভাজন করে।’

বিজ্ঞাপন

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালের আগে এ দেশে আশ্রয় নেওয়া শুধুমাত্র অ-মুসলিম শরণার্থীদেরই নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আইনটি পাস হওয়ার পর এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন অনেকেই।

বিরোধীদের মতে, এই আইন বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে বর্ণিত দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির পরিপন্থী। দেশের বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রকে এই আইন প্রত্যাহার করার কথাও বলেছে।

এই সপ্তাহের শুরুতে, সুপ্রিম কোর্ট সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত বলেছে যে তারা সরকার পক্ষের জবাব না শুনে সিএএ নিয়ে কোনও স্থগিতাদেশ দেবে না। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রের জবাব তলব করেছে দেশের শীর্ষ আদালত।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সারাদেশে বিক্ষোভের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে ১৪৩ টি আবেদন জমা পড়ে। শীর্ষ আদালতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে করা আবেদনগুলিতে দাবি করা হয়েছে যে সিএএ অবৈধ এবং সংবিধানের মূল কাঠামোর পরিপন্থী।

আরও বলা হয়েছে যে এই আইনটি সাম্যের অধিকারেরও পরিপন্থী কারণ এটি ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদান করার কথা বলে। কিছু আবেদনে আবার গত ১০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া আইনটির প্রয়োগে স্থগিতাদেশ জারির আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনকারীদের তালিকায় বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রয়েছে। ওই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে অন্যতম হল কংগ্রেস, ডিএমকে, সিপিআই, সিপিএম, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ বা আইইউএমএল, আসাদউদ্দিন ওয়াইসির অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন এবং কমল হাসানের মাক্কাল নিধি মায়াম।