চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজনৈতিক দলগুলোতে কেন এই বিশৃংখলা?

বিএনপি কি কেবল নির্বাচনকে জায়েজ করার জন্যই? বাম দলগুলো কি কেবল ভাঙ্গনের জন্যই? আর আওয়ামী লীগ কি কেবল আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জন্যই? আসলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতি প্রকৃতি কোন দিকে যাচ্ছে? বিএনপি এ সরকারকে অবৈধ সরকার বলে আবার এর অধীনে নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করে৷ কোথায় ২০ দল, কোথায় ঐক্যফ্রন্ট? ঐক্যফ্রন্ট হতে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচনী বৈতরনী পাড় হয়ে পরে আবার এ সরকারের সংসদে ঢুকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে৷ পাশ করে বাংলাদেশ জিন্দাবাদের ধানের শীষ নিয়ে আবার মুখে বলে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু৷ সম্প্রতি পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো দ্বিতীয় ধাপে৷ মোহনগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীর কোন প্রচার প্রচারণাই ছিলো না৷ নির্বাচন কমিশন ঋণখেলাপীর অভিযোগে দলটির মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুন্নবী শেখের মনোনয়ন আটকে দিল৷ ভোটাররা জানে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি নেই৷

এলাকায় ধানের শীষের কোন গণসংযোগ, পোষ্টার, মাইকিং তথা কোন ধরনের প্রচারণার ছিটেফোঁটাও ছিলো না৷ নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেল ধানের শীষ আছে৷ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রচার প্রচারণায় থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু হেনা চৌধুরী সেতু ভোট পেলো ১৪৩টি৷ আর প্রচার প্রচারণা না করে বিএনপির ধানের শীষ পেয়ে গেল ১০২২ ভোট৷ এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কেনই বা ধানের শীষের প্রার্থীর মনোনয়ন আটকে দিল৷ পরবর্তীতে কেনইবা আবার দিয়ে দিলো? এর ব্যাখ্যায় কী বলবে নির্বাচন কমিশন? তবে কি একদলীয় প্রতীকের নির্বাচনী বদনাম ঘুচাতেই বিএনপির মনোনয়নকে কাগজে কলমে মুক্ত করে দেয়ার চেষ্টা? এনিয়ে বিএনপিও নীরব ভূমিকায়৷ ভার্চুয়ালিও তাদের কোন বক্তব্য পেশ নেই৷আসলে এই দলটির দলীয় সত্তাই মনে হয় বিলুপ্ত হয়ে গেছে৷

বিজ্ঞাপন

সংসদ, রাজপথ কার্যত কোথাও কোন বিরোধী দল নেই৷ বাংলাদেশের বিরোধী দলকে বিএনপি না জাতীয় পার্টি? এটা নিয়েও প্রশ্ন৷ তবে কি সংসদে জাতীয় পার্টি৷ আর রাজপথে বিএনপি? কিন্তু কই বিএনপিতো রাজপথেও নেই? তারা পথহারা পথিকের মতো এদিক ওদিক করছে কেবল৷ আর সরকার দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কি? যে ১৪ দল চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিরোধী দল হিসাবে আন্দোলন করে রাজপথে লাঠিপেটা খেতো৷ এখন আর তাদের কোন তৎপরতাই নেই৷ ১৪ দলের আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন দলের মন্ত্রীসভাতেও অংশগ্রহণ নেই৷বিরোধী দল হিসাবে রাজপথের আন্দোলনে ছিলো ১৪ দল আর সরকারের মন্ত্রীসভায় ১ দল৷ ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তোপের মুখে পড়েছিলেন ১৪ দল নেতা রাশেদ খান মেনন এমপি৷ তিনি যখন কথা বলেছিলেন তখনও মন্ত্রিসভায় ১ দলই ছিল৷ এবার মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে অভিযোগ তুললেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী৷ লেগে গেলো নিজ দলের নেতাদের একে অপরের বিরুদ্ধচারণ। প্রশাসনের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন এমপি নিক্সন চৌধুরী৷ এরপর মীর্জা কাদের৷ এখন এরা দুজন একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলছেন৷ মীর্জা কাদের নির্বাচনের আগে নিজেরই বড় ভাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধেও কথা বলছেন৷ কেন এই অস্থিরতা? তবে কি বিরোধী দলের নিস্ক্রিয়তায় নিজেরাই নিজেদের বিরোধী দল হয়ে উঠছে? কিন্তু কেন?

কেবল আওয়ামী লীগ নয় সকল রাজনৈতিক দলেই বিশৃংখলা৷ বিশৃংখলা বাম দলগুলোতেও৷ সিপিবির এক নারী নেত্রী শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছেন আরেক সিপিবি নেতার বিরুদ্ধে৷ এর প্রতিবাদে সিপিবি কার্যালয়ে অনশন কর্মসূচীও পালন করেছেন তিনি৷ সিপিবির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খানের বক্তব্য নিয়ে দলে শুরু হয়েছে আভ্যন্তরীন বিবাদ৷ আবার ভেঙ্গে গেল বাসদ৷ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ভেঙ্গে গঠিত হলো নতুন সংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল৷ কেন রাজনীতিতে এমন বিবাদ সংক্রমিত হতে চললো? এগুলো কি রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থাহীনতার কারণ নয়?

বিজ্ঞাপন

এভাবে সকল রাজনৈতিক দলে এমন সহসা বিশৃংখলা দেখা দিলো কেন? বিএনপিতে অনেক নেতাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কথা বলতে শোনা যায়৷ পথহারা পথিকের মতো হয়ে ওঠা এই দলটি তবুও নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করতে রাজী নয়৷ ভাবখানা যেন এমন সরকার তাদের আন্দোলনের পথ করে দেবে আর সেই পথে তারা আন্দোলনে নামবে৷তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাচ্ছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাচ্ছে৷ কিন্তু কেন যাচ্ছে? এতে তাদের রাজনৈতিক কী ফায়দা হচ্ছে?তারা প্রতিটি নির্বাচনে যাচ্ছে আর ফেল করছে৷ লাগাতার ফেল করছে আর নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থার কথা বলছে৷ যে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাদের কোন আস্থাই নেই তার অধীনে তারা কেন নির্বাচনে যায়? তারা যদি নির্বাচন বর্জন অব্যাহত রাখতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতার হিড়িক পড়ে যেতোনা? আর তা কি সরকারের জন্য বিড়ম্বনার হতোনা? দেশে বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হতোনা এমন নির্বাচন? নড়াচড়া করতে না পারলে নীরবতাও তো প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে৷ আর সে নীরবতাও ঘটাতে পারে সরবতার উত্থান৷ বিএনপির বোধে কি তাও নেই?

এই সরকারের আমলেই জাসদ ইনু ভেঙ্গে আরও একটি নতুন জাসদের জন্ম হলো৷ জাতীয় পার্টিতেও বিরোধ একদিকে রওশন এরশাদ, একদিকে জি এম কাদের, একদিকে বিদিশা এরশাদ৷ সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগে, এক যোগে সকল দলেই এমন আভ্যন্তরীন বিরোধ কেন? মোহনগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষের ১০২২ ভোট প্রাপ্তিতে লাভটা কি বিএনপির হলো না সরকার ও নির্বাচন কমিশনের হলো? নির্বাচন কমিশন কি তবে একদলীয় প্রতীকের নির্বাচনের কলঙ্ক ঘুচাতেই শেষ মুহূর্তে বিএনপি প্রার্থীর বৈধতা ঘোষণা করল? কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিএনপির কি লাভ হলো?

এক কথায় সরকার পন্থী জোট, সরকার বিরোধী জোট, সরকার দল, বিরোধী দল, বাম, ডান সকল রাজনৈতিক দলেই চলছে চরম অস্থিরতা৷রাজনৈতিক অঙ্গনের এমন ঘরে বাইরে অস্থিরতা কী পরিণতি বয়ে আনছে? কেন সকলে মিলে নিজেদের রাজনীতি ও রাজনৈতিক প্লাটফরমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে? এরকম বিশৃংখলময় অস্থিরতায় রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী? কেউ কারো উপর নির্ভর করতে পারছেনা৷ ভরসা করতে পারছেনা৷ আস্থা রাখতে পারছেনা৷ এরকম নির্ভরতাহীনতা, ভরসাহীনতা ও আস্থাহীনতা নিশ্চয়ই কোন রাজনৈতিক সুফল বয়ে আনবেনা৷ কিন্তু এ বিষয়টা যাদের ভাবার তারা ভাববে কি?

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)