চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘রাজনীতি থেকে অভিনয়ে আসছি, মাঠের মানুষও আমাকে চেনে’

ঢাকা-১৭ আসন থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন চিত্রনায়ক ফারুক, নির্বাচন সামনে রেখে পুরোদমে নামছেন রাজনীতির মাঠে

চারদিকে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সে হাওয়ায় গা ভাসিয়েছে দেশের আপামর জনগণ। নানা কারণেই আসন্ন ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে নির্বাচনকে ঘিরে এবার তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছেন দেশের তারকারা অভিনেতা, অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পীরা।

আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ হয়ে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রাজনীতিবীদ ছাড়াও এবারই প্রথম শোবিজ অঙ্গন থেকে দেখা গেছে বেশকিছু তারকাদের নাম! যারা নিজেদের পছন্দের দল থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোয়ন চেয়েছিলেন। কাউকে দলগুলো মনোয়ন দিয়েছে, আবার কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। তবে শোবিজ অঙ্গন থেকে সবচেয়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছেন প্রবীন অভিনেতা চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। তিনি লড়ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর পক্ষ হয়ে।

শুরুতে দলের পক্ষে মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন ফারুক। তবে সব আশঙ্কা দূরে ঠেলে অবশেষে আওয়ামী লীগ থেকে ঢাকা-১৭ আসনে আগামী নির্বাচনের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন তিনি। মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত ফারুক। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানালেন চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে:

অবশেষে দলের চূড়ান্ত মনোয়ন পেলেন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা থাকলো না আপনার?
ইনশাল্লাহ! একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি অংশ নিচ্ছি।

মনোনয়নের চিঠি কি হাতে পেলেন?
না। সকালে দুই জায়গা থেকে ফোন পেয়েছি। নানক সাহেব (জাহাঙ্গীর কবির নানক) ও কাদের সাহেব (ওবায়দুল কাদের) ফোন করে পার্টির চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি সংগ্রহের জন্য বললেন।

সিনেমা সংশ্লিষ্ট মানুষদের জন্যতো এটা খুব আনন্দ সংবাদ…
হ্যাঁ। তাতো বটেই। নানা জল্পনা কল্পনার পর এমন সংবাদ পেলাম। অনেক কথাবার্তা হলো এই মনোনয়ন নিয়ে, তবে এখন সবকিছু ভুলে থাকতে চাই। সবাই এক হয়ে কাজ করতে চাই। সোজা কথা, আমাদের মধ্যে এখন যেন আর কোনো বিভাজন না থাকে। সাংবাদিক ভাই বোনসহ সবার দোয়া চাই।

আপনার নিজ আসনতো কালিগঞ্জ (গাজীপুর-৫), কিন্তু নির্বাচন করতে হচ্ছে ঢাকা-১৭ আসন থেকে। এক্ষেত্রে মানুষের কাছে যেতে কোনো জটিলতা তৈরী হতে পারে কিনা?
কালিগঞ্জ আমার আসন। আমার বাড়ি সেখানে এটা সত্য। সেখানকার পুরো ম্যাপটা আমার জানা। সবকিছু বিস্তারিত জানি। কিন্তু পুরো ঢাকা শহরটাও একসময় আমার ছিলো। সবাই জানতো আমি ঢাকারই ছেলে। খুব জনপ্রিয়তা ছিলো আমার। কিন্তু এখন হয়েছে কি, কচুক্ষেত, ভাষানটেক এগুলো আমাদের সময় ছিলো সব মিরপুর এলাকা। এখন এগুলো ভাগ করা হয়েছে, এগুলো একটু দেখতে হবে। কোন এলাকায় কী সমস্যা আছে এগুলো এখন জানতে হবে।

তারমানে ওই এলাকার মানুষের কাছে এখন প্রতিনিয়ত আপনাকে ছুটতে হবে…
আমি এমনিতেও গুলশান, বনানী, ভাষানটেক, কচুক্ষেত এলাকায় এরইমধ্যে মোটামুটি কয়েকবার গিয়েছি। সেখানকার মানুষের সাথে কথা বলেছি, পরিচিত হয়েছি। এছাড়া আমার আরেকটি অ্যাডভানটেজ হচ্ছে আমি একজন অভিনেতা। সব শ্রেণির মানুষের কাছে আমার পপুলারিটি আছে। মানুষজন আমাকে চেনে, ভালোবাসে। এতো ভালোবাসে যা আমি জানতাম না! মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবানতো এই ভালোবাসাটাই, শ্রদ্ধাটাই। মানুষ এতো আদর দিয়ে আমার সাথে কথা বলে! আমিতো তাদের কাছেই ছুটে যাবো, না গেলে আবার ইলেকশান হয় নাকি। আমিতো রাজনীতি থেকে অভিনয়ে আসছি, তাই মাঠের মানুষও আমাকে চেনে। সুতরাং মাঠে না থাকলে এমনিতেই আমার ভালো লাগবে না, মাঠের লোকজনের সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করবে। মানুষের চাওয়া পাওয়া আমার জানতে হবে। তাদের সাথে মিশে যেতে হবে। মানুষের জন্য যতোটুক করা সম্ভব, তার এক ইঞ্চিও কম করবো না।

এই আসন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
পরিকল্পনার কথাতো অনেকেই চট করে বলে ফেলেন, কিন্তু আমি সেটা আগে থেকেই কিছু বলতে চাই না। আমি বিশ্বাস করি আমার নেত্রী শেখ হাসিনা, তিনি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন। আর আমি এই আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর এই এলাকার মানুষের ভালো মন্দ দেখার দায়িত্ব আমার। কিন্তু আগে থেকেই এই করবো, সেই করবো এগুলো বলতে চাই না। বা এরকম বলার মানুষও আমি নই।