চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করলে লাভ কার?

কী লাভ হল মৃত্যুদণ্ডের আইন করে? আইনের প্রয়োগ না হলে যা হয় তাই ঘটছে এদেশে৷ এমপি হাজী সেলিমের ছেলে এত এত অপকর্ম করতো তা কি এতদিন প্রশাসনের অজানা ছিল? জানা হয়ে গেল নৌবাহিনীর একজন অফিসারকে লাঞ্চিত করার পর৷ এই লাঞ্চনার শিকার একজন সাধারণ মানুষ হলে নিশ্চয়ই লাঞ্চনাকারীর হাতে হাতকরা উঠত না৷ প্রশাসনও এতো তৎপর হতো না৷ এ ব্যাপারে একটা বিচারিক বিশেষ সেল গঠন করা উচিত নয় কি?

রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের একজন এএসআইয়ের নেতৃত্বে মহানগরীর হারাগাছ থানার ক্যাদারের পুল এলাকায় একটি বাড়িতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে এএসআই রায়হানুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ আইনশৃংখলা বাহিনীর আরও অনেকের বিরুদ্ধে আগেও উঠেছে৷ সেগুলোর দ্রুত কঠোর শাস্তি হলে আর দেশজুড়ে তা প্রচার হলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতো৷ দেশজুড়ে আলোচিত হয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিষয়৷ চাপা পড়ে যায় আইনশৃংখলা বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যের অপকর্ম৷

বিজ্ঞাপন

রক্ষক যদি ভক্ষক হয় এমন ভক্ষকের বিচার করবে কোন রক্ষক? হাজী সেলিমের ছেলের অপরাধ কি এই ধর্ষক পুলিশের চেয়ে বেশি নয়? ইরফান সেলিম একজন নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে না মেরে একজন সাধারণ নাগরিককে মারলে এত হুলস্থল হতো না? হুলস্থুল হতো না সরকার দলীয় কোন নেতার গায়ে হাত তুললে। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে না মারলে তার এসব অপকর্মও বের হতো না। ইয়াবা, মাদক দ্রব্য, টর্চার সেল, ওয়াকিটকি মনিটরিং রুম এসবের কিছুই এতোদিন জানতো না প্রশাসন বা গোয়েন্দা বিভাগ, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

দেশবিদেশে রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি নষ্টকারী এসব অপকর্মের সুফল কি রাজনৈতিক দল নেবে না আমলারা নেবে? রাজনীতিকে গালাগাল দেয়া সহজ একে সুস্থধারায় ফিরিয়ে আনা কঠিন৷ তাই এই ফিরিয়ে আনার নূন্যতম চেষ্টা করছেনা কেউ৷ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণভিত ভিত্তিক এক নম্বর দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ৷ বামপন্থী দলগুলোর কেবলই ঢাকা ভিত্তিক সামান্য নড়াচড়া আছে৷ দলীয় প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মত সাংগঠনিক অবস্থান কারোরই নেই৷ তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তারা আদর্শিক পথ পরিহার করে লেজুড়ের পথে হাঁটছে৷ কিছু দল সরকারের সাথে কিছু দল সরকারের বাইরে আলাদা ফ্রন্টের নামে রাজনীতি করছে৷ তাদেরও সাংগঠনিক অবস্থা ভালো না৷

বিজ্ঞাপন

বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থাও দুর্বল৷ কোন জনহিতাকাঙ্ক্ষী ইস্যুতেই তারা সরব হতে পারছে না৷ সরব হতে পারছে না দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে৷ নানা কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হয়ে পড়লেও আওয়ামী লীগের বিকল্প কোন রাজনৈতিক শক্তি কি আছে? বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা কী? বিএনপির সহসভাপতি শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন দলের চেয়ারপার্সনের আপোষহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন৷ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একজন দণ্ডিত ফেরারী আসামী৷ এক কথায় সকল রাজনৈতিক দলই বিতর্কিত হয়ে গেছে৷ বাম রাজনীতি চলছে কেবলই কথামালার উপর ভিত্তি করে৷ তাদের অধিকাংশেরই কথা ও কাজের সাথে মিল নেই৷ মঞ্চে বৈষম্যের বিরুদ্ধে তারা কথা বলেন আর দলের ভেতরে পোষেন বৈষম্য৷ সেখানেও চলছে দলত্যাগের ঘটনা৷

সরকারপক্ষীয় ১৪ দলও নিষ্ক্রিয়, সরকার বিরোধী ২০ দলও নিষ্ক্রিয়৷ ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পর ১৪ দলের আলোচনাও আর শোনা যায় না৷ বর্তমানে ১৪ দলের সমন্বয়ক কে? ২০ দলেও জোট ছাড়ার ঘোষণা ঘটেছে৷ সব মিলিয়ে সরকার স্বপক্ষীয় ও সরকার বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলেরই সাংগঠনিক শক্তি হ্রাস হচ্ছে৷ জনমত হ্রাস হচ্ছে৷ হারিয়ে যাচ্ছে হরতাল, বিক্ষোভ, মিছিল, পাল্টা মিছিল, জনসভা ও পাল্টা জনসভার রাজনৈতিক সংস্কৃতি৷ হারিয়ে যাচ্ছে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা৷

রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দৈন্যদশায় সুফল নেবে কে? কী ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে এদেশের রাজনীতির ভাগ্যাকাশের? আমরা পাকিস্তানের মতো নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক সরকার চাই না৷ চাই না কুটিল মুশতাক শাসন, চাই না জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসন৷ চাই না ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দীন আমলের অগণতান্ত্রিক শক্তি৷ এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর যত আগে বোধোদয় হবে ততই মঙ্গল৷ যেভাবে ঢালাওভাবে রাজনীতি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে, তা দেশ,মানুষ ও গণতন্ত্রের জন্য শুভকর হতে পারে না৷

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)