চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে জলাবদ্ধতার দায় কার?

কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা শহর যেন পরিণত হয় সমুদ্রে, একই অবস্থা বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও। এ অবস্থা কয়েক যুগ থেকে চলে আসছে। বর্তমান সময়ে রাজধানীজুড়ে চলা মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ নানা মেগা প্রকল্পের সমন্বয়হীন কর্মে জলাবদ্ধতা প্রকোট আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টির পরপরই নগরবাসীর দুর্ভোগ চিত্র গণমাধ্যম-সামাজিক মাধ্যমে এসে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।

এই জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্নসময় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসা’র বিরুদ্ধে নাগরিক ক্ষোভ দেখা যায়। আবার ওই দুই সংস্থাকে অনেকসময় দেখা যায় দায় এড়াতে একে অন্যকে দোষারোপ করতে। চট্টগ্রামসহ নানা বড় শহরগুলোতেও এরকম অবস্থা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণ একপ্রকার অসহায়ভাবে এই সমস্যাকে মেনে নিতে শুরু করেছে বলে আমাদের ধারণা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রাজধানীতে বড় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার মধ্যে রয়েছে- সচিবালয়, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, নিকুঞ্জ-১ ও ২, রোকেয়া সরণি, সাংবাদিক কলোনি এলাকা। রাজধানীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম খালগুলো অবৈধ দখল ও কঠিন বর্জ্যে ভরাট হয়ে আছে। নগরের খাল, ড্রেন, বক্স কালভার্ট ও ব্রিক স্যুয়ারেজ লাইন দিয়ে পানি নদীতে যেতে পারছে না। ফলে ভারি বর্ষণে শহরের অলিগলি, প্রধান সড়ক, ফুটপাথ পর্যন্ত তলিয়ে যায়। ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের বাৎসরিক বাজেটে খাল পরিষ্কারে বেশ ভাল অংকের বরাদ্দ থাকলেও তা খরচের পদ্ধতিগত বিষয়ে নানা অসঙ্গতি নানাসময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। খাল পরিষ্কার করে সেই ময়লা আবার খালের পাড়েই রেখে দেয়া হয়সহ নানা অভিযোগের কথা শোনা যায়। স্বল্পকালীন কিছু পদক্ষেপ থাকলেও টেকসই সমাধানে সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বললে ভুল হবে না।

বিজ্ঞাপন

জলাবদ্ধতায় রাজধানীর রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্বল্পসময়ে। গণপরিবহনসহ জনগণের সম্পত্তিরও ক্ষতি হচ্ছে সমানুপাতিক হারে। এসব বিষয়ে জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি নজর দেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

একটি দেশের রাজধানীসহ বড় বড় শহরের নাগরিক সুবিধার চিত্রের উপরে দেশের ভাবমূর্তি নানাভাবে জড়িত। বিভিন্ন বৈশ্বিক সূচকে সেগুলোর বেশ ফলাও করে প্রচার-প্রকাশিত হয় নানা সময়ে। সেইসব সূচক বা প্রতিবেদনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরের করুণ চিত্র বছর বছর দেখা যায়। যানজট, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা বারবার বিব্রত করছে জাতিকে। এই অবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তি সময়ের দাবি। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্ট সব মহল এ বিষয়ে কার্যকর মনোযোগ দেবেন।