চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে রাত ১২টা থেকে লকডাউন, সেনা টহল বৃদ্ধি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পূর্ব রাজাবাজার এলাকা মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সম্পূর্ণ লকডাউন করা হচ্ছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই লকডাউন প্রকল্প নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সেনা সদস্যরাও উক্ত এলাকায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেনা সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে লকডাউন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ সমূহ গ্রহণ করবে।

গতকাল সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এ এলাকা পরীক্ষামূলকভাবে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলার লক্ষ্যে ডিএনসিসি এলাকার জন্য গঠিত কমিটির এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

পরে লকডাউনের নিয়ম-কানুনের ব্যাপারে জানানো হয়, লকডাউন চলাকালে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। জনগণের চলাচল অত্যন্ত সীমিত রাখা হবে। এ সময় পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় বসবাসরত লোকজন বাইরে যেতে পারবেন না এবং বাইরের লোকজন ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয় করা যাবে, যা বাসায় পৌঁছে দেয়া হবে। এটুআই ও ইক্যাব যৌথভাবে এটি পরিচালনা করবে। হোম ডেলিভারির জন্য ইতোমধ্যে একদল প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী তৈরি করা হয়েছে।

যাদের অনলাইন সুবিধা নেই, নগদ অর্থে খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করতে চান তাদের জন্য দু-একটি শাক-সবজি, মাছ-মাংসের ভ্যান, ভ্যানচালক ও পণ্যসামগ্রী সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে ভেতরে প্রবেশ করানো হবে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে বিভিন্ন মেয়াদে ছুটি বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দেশের ইতিহাসের দীর্ঘ এ ছুটির পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত খোলা হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে গণপরিবহনও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এ নিয়ে দেশে মোট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ হাজার ৫০৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৯৭৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫ হাজার ৩৩৬ জন।