চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজধানীর খেটে খাওয়া মানুষের পাশে একজন সৈকত

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের মহামারিতে সুনসান নিরবতায় গোটা দেশ। কাজহীন হয়ে পড়েছেন ভাসমান মানুষগুলো। ছিন্নমূল ক্ষুধার্ত এই মানুষগুলোকে দেখার মতো যেনো কেউ নেই।

পুরো রাজধানী ঢাকা যখন ফাঁকা তখন খেটে খাওয়া দিনমজুরদের দু’মুঠো খাদ্য যোগান দিতে অনেকেই স্বেচ্ছাসেবী হয়ে ছুটে যাচ্ছেন তাদের কাছে। এমনই একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য ও থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান সৈকত।

বিজ্ঞাপন

গত ২৫ তারিখ নিজ উদ্যোগে ৫০ জন শ্রমজীবী মানুষকে খাদ্য সহযোগিতার মাধ্যমে শুরু করেছিলেন। গত দুইদিন পরিচিত শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রজ-অনুজ ও বন্ধুদের সহায়তায় বাড়িয়েছেন সাহায্যের পরিসীমা। এখন প্রতিদিন দিনের বেলা ১০০ টি পরিবারের হাতে তুলে দিচ্ছেন চাল, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি৷ আর রাতের বেলা নিজে রান্না করে খাওয়াচ্ছেন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ভাসমান ২০০ মানুষকে।

বিজ্ঞাপন

সৈকতের এই কাজ ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। অনেকেই এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতাও করছেন। চ্যানেল আই অনলাইন-কে এমনটিই জানিয়েছেন সৈকত।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে সৈকত বলেন; “বুকে সাহস নিয়ে প্রথমে নিজের পকেটে যা ছিল তাই দিয়ে শুরু করি। আমার বিশ্বাস ছিল আমার পরিচিতজনেরা এই মানবিক কাজে আমার পাশে থাকবেন। টিএসসির কর্মচারী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বন্ধুরা নানাভাবে সহযোগিতা করছেন।”

সৈকত বলেন; “দেশের এ ক্রান্তিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একজন ছাত্রনেতা হিসেবে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমি কর্তব্য মনে করি। কেউ যদি আমার এই কাজকে শো-অফ মনে করে, করুক। এ ক্রান্তিলগ্নে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

সকলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন; “দয়াকরে শো-অফের জন্য হলেও মানুষের পাশে দাঁড়ান, তা নাহলে এই মানুষগুলো না খেয়ে মারা যাবে। এদের জীবনেরও মূল্য আছে।”

যতদিন এই দুর্দিন থাকবে এবং মানুষের সহযোগিতা পাবেন ততদিন পর্যন্ত মানুষের পাশে থাকতে চান বলে জানান সৈকত।