চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজধানীর আদাবরে চার মাসের শিশুর ‘খুনি’ প্রতিবেশি

রাজধানীর আদাবরে পারিবারিক বিরোধের জেরে মাত্র চার মাসের শিশু সাদিয়াকে হত্যা করে প্রতিবেশি পারভীন আক্তার।

হত্যাকাণ্ডের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও পারিবারিক ঘটনা বিশ্লেষণের পর শিশু সাদিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার পারভীন আক্তার।

বিজ্ঞাপন

পারভীন আক্তার জানান, তার দুই সন্তান সাদিয়াদের ঘরে গেলে গালিগালাজ ও মারধর করতো সাদিয়ার মা। এর প্রতিশোধ নিতেই এবং উচিত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই শিশু সাদিয়া কে খুন করেন পারভীন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ।

তিনি বলেন, পুলিশ পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, প্রযুক্তি সহায়তা ও গােপন সূত্রের ভিত্তিতে গত ৫ জুলাই ভিকটিমের প্রতিবেশি পারভিনকে (২৪) গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে শিশু সাদিয়া হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।

হারুন অর রশিদ বলেন, ভিকটিমের পরিবার ও হত্যাকারী পারভীনের পরিবার দুটোই নিম্নবিত্তের। আসামী পারভীন গৃহিনী। তিনি ৫ মাস পূর্বে ঢাকায় আসেন। তার স্বামী একজন রিক্সাচালক। ভিকটিম সাদিয়ার পিতা একজন দিনমজুর ও দাদা বস্তির ম্যানেজার।

বিজ্ঞাপন

করোনার কারণে আসামী পারভীনের স্বামীকে বাসার সামনে ভিকটিমের দাদা দোকান করতে না দেয়ায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।

দ্বিতীয়তঃ পারভিন আক্তারের দুই বছরও চার বছরের দুটি বাচ্চা সাদিয়াদের বাসায় গেলে সাজিয়ার বাবা ও মা তাদের মারধর করতো।‌ এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও শত্রুতার সৃষ্টি হয়।

ব্যবসা করতে না দেয়া ও সন্তানদের গালিগালাজ ও মারধর করার কারণে আসামী পারভীন ভিকটিমের মাকে একটি উচিত শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মােতাবেক আসামী পারভীন ঘটনার দিন ভিকটিমের মা ভিকটিমকে ঘুম পাড়িয়ে রান্না করতে গেলে সে ঘরে ঢুকে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়। সে একাই এই নির্মম হত্যাটি করে।

ডিসি হারুন বলেন, পারভীন আক্তার আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘর থেকে হত্যাকাণ্ড ব্যবহৃত ব্লেডটি উদ্ধার করা হয়। খুব দ্রুতই শিশু সাদিয়া হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

গত শুক্রবার আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে উত্তর আদাবর ৩৮/১০ একটি বাসা থেকে গলাকাটা অবস্থায় চার মাস বয়সী শিশু সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে উঠে আসে প্রতিবেশী পারভিন আক্তারের সঙ্গে নিহত শিশু সাদিয়ার বাবা শাহজাহান ও মা মুর্শিদা বেগমের সাথে পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদাবর থানায় একটি মামলা দায়ের হয় (নাম্বর ১১)।