চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজধানীতে নাশকতার পরিকল্পনা, গ্রেপ্তার ১

রাজধানীতে নাশকতার পরিকল্পনায় পলাতক সহযোগীদের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র সদস্য মিনহাজ। 

শনিবার রাতে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের একটি দল অভিযান মিনহাজ হোসেনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে।

সেসময় তার হেফাজত থেকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ জানায়, গ্রেপ্তার মিনহাজ হোসেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একটি অংশ নব্য জেএমবির একজন সক্রিয় সদস্য। এছাড়াও আন্তর্জাতিক উগ্রবাদি সংগঠন হায়াত তাহরীর আল শাম (এইচটিএস) এর সদস্যদের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে বলেও সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। সে ও তার পলাতক সহযোগীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ঢাকা শহরে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনার জন্য ঘটনাস্থলে মিলিত হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ আরো জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তেতে জানা যায়, গত ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে সিরিয়া থেকে তুরস্ক হয়ে একজন সিরিয়া ফেরত বাংলাদেশী নাগরিক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। সে বাংলাদেশে রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডের মাধ্যমে কথিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন সহিংস উগ্রবাদি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। তখন থেকেই তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়। যার ধারাবাহিকতায় শনিবার দারুস সালাম এলাকা থেকে মিনহাজকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্রটি আরো জানায়, গ্রেপ্তার মিনহাজ উগ্রবাদি ভাবাদর্শে দীক্ষিত হয়ে আন্তর্জাতিক উগ্রবাদি সংগঠনের সাথে যোগাযোগের প্রচেষ্টা শুরু করে। এ উদ্দেশ্যে সে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সিরিয়া গমনের লক্ষ্যে তুরস্কে যায়। তুরস্কে থাকাকালীন সময়ে সে সন্ত্রাসী সংগঠন হায়াত তাহরীর আল শাম (এইচটিএস) এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে সিরিয়া গমনের চেষ্টা করে। কিন্তু সে সিরিয়ায় প্রবেশ করতে না পেরে তুরস্ক হতে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরে আসে। দেশে ফিরে সে খুলনা গিয়ে আত্মগোপন করে এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসী সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্যদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। সে নব্য জেএমবি সংগঠনের সদস্যদের সাথে মিলিত হয়ে রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে কথিত খিলাফত প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

জানা যায়, গ্রেপ্তার মিনহাজ বংশানুক্রমে বাংলাদেশের নাগরিক। সে বাংলাদেশে জম্মগ্রহণ করার পর কিশোর বয়সেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে পাকিস্তান যায়। সে সেখানেই বড় হয়। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান থেকে সে ও তার পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে যায়। এছাড়াও, সে বিভিন্ন সময়ে মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, পাপুয়া নিউগিনিসহ একাধিক দেশ ভ্রমণ করে এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মিনহাজের বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় মামলা করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন