চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজধানীতে কি হঠাৎ বেড়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনা?

কেশব রায় পাপন (২৪), সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্সের ৭ম সেমিস্টারে ছাত্র ছিলেন, উত্তরবঙ্গের ছেলে কেশব পড়াশোনার খরচ চালাতে পার্টটাইম কাজ করতেন একটি কুরিয়ার সার্ভিসে। ৫ অক্টোবর ফার্মগেট পূর্ণিমা সিনেমা হলের পাশ দিয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

এরপরে আজ (সোমবার) ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে আহত হয়েছেন মডেল নায়লা নাঈম। রোববার সকালে মগবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে নায়লা নাঈমকে আক্রমণ করে বসে ছিনতাইকারী দল। এ সময়ে তিনি স্কুটিতে ছিলেন। আরেকটি ঘটনা ঘটেছে আজ দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে, মোবাইল ফোন ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ধানমন্ডি মডেল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিজয় গুরুতর আহত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল দেয়ার জন্য ব্যাংকে যাওয়ার সময় এমন ঘটনার শিকার হয় সে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এরকম অসংখ্য ঘটনা ঘটে চলেছে রাজধানীতে। এক কথায় বলা যেতে পারে, রাজধানীতে বেড়ে গেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। ছিনতাইকারী এতটাই বেপরোয়া যে, তারা খুন করতেও দ্বিধা করছে না। মোবাইল ছিনতাইয়ের সময় আহত হচ্ছেন অনেকে। এ ছাড়া অজ্ঞান করে জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সম্প্রতি বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

করোনাকালে দেশে চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা, ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতন—এই পাঁচ ধরনের অপরাধ অনেকটাই বেড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া ২০২০ সালের সারা দেশের অপরাধ পরিসংখ্যান (জুন, ২০২১ এ প্রকাশ) পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২০ সালে ছিনতাই (দ্রুত বিচার আইনে মামলা) ৮৭১টি। এর মধ্যে আগের বছরের তুলনায় ছিনতাই বেড়েছে ৩৪০টি। বাস্তবতার নিরীখে বলা যায়, ছিনতাইয়ের ঘটনা এরচেয়ে আরও বেশি যার কিছু আইন ও গণমাধ্যমের নজরে আসছে, আর বহু ঘটনা নিরবে হজম করছে ভূক্তভোগীরা।

ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনার পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে গঁৎবাধা কিছু বক্তব্য ও ভবিষ্যত আশ্বাস দেয়া হয় গণমাধ্যমে। কিন্তু অপরাধের মাত্রা খুব একটা নিয়ন্ত্রণে আসে না বেশিরভাগ সময়। করোনার আগের বছরগুলোতে রাজধানীতে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ অনেকটাই কমে এসেছিল। কিন্তু বর্তমানে অপরাধের উর্দ্ধগতি আমাদের ভাবাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিতে হবে বিশেষ উদ্যোগ। সবার আগে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় ছিনতাই রোধ করতে বেগ পেতে হবে। শহরে ছিনতাইয়ের অন্যতম কারণ মাদক। দেখা গেছে, মাদকসেবীরাই মূলত ছিনতাইয়ে জড়িত। তাদের যেকোনো মূল্যে মাদকের পথ থেকে সরিয়ে আনতে হবে। এছাড়া শহরে বেকারত্ব দিন দিন বাড়ছে। আর বেকার জনগোষ্ঠীর একটি অংশ হতাশা আর দারিদ্র্যের চাপে মাদকে ঝুঁকছে। এ জন্য শহরে অন্যান্য খাতে উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বেকারত্ব দূরীকরণে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সে লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।

শহরে ছিনতাইয়ের আরেকটি কারণ হলো অন্ধকার পথঘাট। সড়কের যেসব স্থানে আলোর ব্যবস্থা নেই, সন্ধ্যা নামার পর থেকেই কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে, সেসব স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরাও রাজধানীতে খুব একটা সচল নেই, সেদিকে নজর দেয়া দরকার। তাহলে ছিনতাইকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করাও সহজ হবে। এছাড়া ছিনতাই রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরো বাড়ানো ও আলাদা টহল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তাহলে হয়তো ধীরে ধীরে নিরাপদ হয়ে উঠবে রাজধানী, কমে আসবে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে মনোযোগী হবেন।