চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রমজানে কুরআন তেলাওয়াতের ফজিলত

আরবি মাসসমূহের মধ্যে ‘মাহে রমজান’ অন্যতম শ্রেষ্ঠ। এই শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ বা মাধ্যম পবিত্র কুরআন শরীফ। এই রমজানেই আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় হাবিবের উপর সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানীগ্রন্থ কুরআন শরীফ নাযিল করেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘রমজান এমন একটি মাস যার মধ্যে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে।’ (সূরা বাকারা : ১৮৫) দেখুন, এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা রমজানের পরিচয়ই দিচ্ছেন কুরআনের মাধ্যমে। তাই স্পষ্টত কুরআন শরীফ অবতীর্ণের মাধ্যমেই মাহে রমজানের ফজিলত বেড়েছে বহুগুণে। হাদিস শরীফে এসেছে, “অন্যান্য মাসসমূহে যে আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হতো রমজান মাসে সব একসাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম জিবরাইল আলাইহিস সালামকে শোনাতেন। আবার জিবরাইল আলাইহিস সালাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামকে শোনাতেন। এভাবে পরস্পর কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতেন।” (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)

কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অত্যাধিক সাওয়াব লাভ করার জন্য রমজানই হচ্ছে মোক্ষম সময়। কুরআন শরীফের বিশেষত্ব হচ্ছে, একটি হরফ তেলাওয়াতে দশটি নেকি হাসিল হয়। রমজানের বিশেষত্ব হচ্ছে, একটি নেকি দশ থেকে সাতশত পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এখন ধরুন আপনি মাহে রমজানে কুরআন শরীফের একটি হরফ তেলাওয়াত করলেন। দশটি নেকি পেলেন। অতঃপর রমজানের কারণে তা দশ থেকে সাতশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং রমজানের কারণেই এই নফল ইবাদতটি আল্লাহর দরবারে ফরযের মর্যাদায় গণ্য হচ্ছে। সুতরাং, যারা মাহে রমজানে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করেন নিঃসন্দেহে তারা অফুরন্ত-অগণনীয় সাওয়াবের অধিকারিই হয়ে থাকেন। ‘রমজান ও কুরআন’ এই দুইয়ের বিশেষত্বকে এক সুথোয় গাঁথা যায় শুধুমাত্র একটি মাধ্যমে। তা হলো, ‘রমজান মাসে কুরআন তেলাওয়াত করা’।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শরীয়ত-তরিকতের ইমামগণ রমজান মাসেই অধিক পরিমাণে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতেন। যেমনঃ
১. ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি রমজান মাসে কুরআন শরীফ মোট ৬১ (একষট্টি) খতম দিতেন। প্রতি রমজানের দিনে এক খতম করতেন। আবার রাতে এক খতম করতেন। বাকি এক খতম পুরো রমজানের তারাবীহর নামাজে আদায় করতেন। (তারিখে বাগদাদ : ত্রয়োদশ খ-)
২. ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি রমজান মাসের প্রতি রাতে ১খতম কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতেন। (আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, একাদশ খ-)
৩. হযরত আবু কাতাদা রহমাতুল্লাহি আলাইহি রমজান মাসে প্রতি ৩দিনে এক খতম কুরআন তেলাওয়াত করতেন। শেষ দশকে প্রতি রাতে ১ খতম দিতেন। (সিয়ারু আলামীন নুবালা, ষষ্ঠ খ-)

কুরআন শরীফ মানবজীবনের অকাট্য সংবিধান। বিশেষতঃ আমাদের মুসলিমদের জন্য। নাজিল হয়েছে পবিত্র রমজান মাসে। তাই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এই বিশেষ নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের নিমিত্তে হলেও রমজান মাসে অধিক পরিমাণে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা উচিত। আর রমজানে কুরআন তেলাওয়াত করলে যে তেলাওয়াতকারীর জন্য ‘সোনায় সোহাগা’ হবে সেটাও বিশ্লেষিত হয়েছে।

আসলে, রমজানের বিশেষত্বই কুরআন। প্রতি রজনীতে কুরআন খতম দিয়ে যেন আমাদেরকে এই মহান শিক্ষাই দিয়েছেন ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা। আসুন, কুরআন নাযিলের মাসে অধিক পরিমাণে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করার চেষ্টা করি। আমাদের রমজান হোক ‘কুরআনময়’।

Bellow Post-Green View