চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Cable

রপ্তানি বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য আনার তাগিদ অর্থমন্ত্রীর

Nagod
Bkash July

দেশের রপ্তানি আয় বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য আনার তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

Reneta June

তিনি বলেন, মাত্র ৪ থেকে ৫টি পণ্য নিয়ে রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে পারবো না। রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। পণ্যের বৈচিত্র্যকরণে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) অধীনে আলাদা উইং বা শাখা খোলার পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার বিডার চতুর্থ বর্ষপূর্তি উদযাপন ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পরামর্শ এসেছে বিডার মতো আরেকটি প্রতিষ্ঠান করার জন্য। তারা উপদেশ দেবে কোন লাইনে পণ্য বৈচিত্রকরণ করবো। তবে আরেকটি প্রতিষ্ঠান না করে বিডা যদি আরেকটি শাখা করতে পারে তাহলে পৃথিবীর কোন কোন দেশ কীভাবে পণ্যে বৈচিত্র্য এনেছে সেসবের সঙ্গে সঙ্গতি করা যাবে।

তিনি বলেন, ৪-৫টি পণ্য নিয়ে রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে পারবো না। পুরো বিশ্বকে আমাদের মনে রাখতে হবে। ডেমগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে হবে। (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড হল- কোনো দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার অর্থাৎ ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনসংখ্যার আধিক্য।) জনশক্তিকে কাজে লাগান, স্থানীয় শিল্পের জন্য অবারিত দরজা খুলে রেখেছি।

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কম জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে এ মুহূর্তে জিডিপির আকার হচ্ছে ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ হচ্ছে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ। দূর্ভাগ্যজনক যে, আমাদের বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ কম। বিদেশি বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি ভোগ করে যুক্তরাষ্ট্র, এরপর চীন এবং সিঙ্গাপুর ১০৫ ডিলিয়ন ডলার, ভারত ৫১ বিলিয়ন ডলার। বেশিরভাগ বিদেশি বিনিয়োগ তাদের দখলে।

বিনিয়োগে আশার বাণী শুনিয়ে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে ভৌত অবকাঠামোগুলো তৈরি করেছি এর ফলে এখন বিনিয়োগ আসবে। দেশি বা বিদেশি সব বিনিয়োগকারী আমাদের কাছে সমান। আমরা কোনো বৈষম্য করবো না করিনি। যারা বিনিয়োগ করবে তারাই আমাদের সম্পদ। আমাদের সম্পদকে আমরা সম্পদশালী হিসেবে দেখতে চাই।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ভিয়েতনাম যেভাবে পেরেছে সেভাবে আমাদের করতে হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সবার উপরে থাকবে। একমাত্র ভিয়েতনামকে আমাদের কাছাকাছি মনে হয়। এছাড়া আমাদের সমপরিমাণ কেউ হবে না। জুলাই-আগস্ট মাসে সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিটি কম্পনেন্ট খুব ভাল অবস্থানে রয়েছে, রেমিন্ট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে অবিশ্বাস্যভাবে।

‘আমাদের যে সম্পদ তার পুরোটা আমরা ব্যবহার করতে পারিনি, আমাদের সম্পদ জনশক্তি। সব জায়গায় ডিজিটালাইজড হচ্ছে। আমাদের জনশক্তিকে যদি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারি; আমি বিশ্বাস করি এরাই হবে বড় শক্তি।’

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সহায়তার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করার চেষ্টা চলছে। বিনিয়োগ বিকাশের জন্য নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি প্রয়োজন, বর্তমানে যারা উদ্যোক্তা তারা নিজেদের চেষ্টায় হয়েছেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা সম্ভব। নতুন বিনিয়োগকারী সৃষ্টির জন্য বিডা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ৬৪ জেলায় বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কাজ চলছে।

বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, বিডার অধীনে কাউন্সিল করলে আইন ও অবকাঠামো সুবিধা হবে। আশা করি এ বিষয়ে বিডা ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও-এমডি কেদার লেলে, গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান, হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সিইও ঝাং ঝেংজুন প্রমুখ।

BSH
Bellow Post-Green View