চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রণদা প্রসাদ স্মৃতি স্বর্ণপদক পেলেন শাইখ সিরাজসহ ৩ বিশিষ্টজন

এ বছরের জন্য দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক সম্মাননা ও স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়েছে জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামাল (মরণোত্তর), বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ও কৃষিক্ষেত্রে পরিবর্তনের রূপকার গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজকে। কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি সাংবাদিকতা ও কৃষি উন্নয়ন কাজে অভূতপূর্ব অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ শাইখ সিরাজকে এই সম্মাননা দেয়া হয়।

আজ বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে প্রদান করা হয়েছে এই পদক।

কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহার ৪৫তম অপহরণ দিবস উপলক্ষে (আজ, শনিবার) বিকেলে স্মারক বক্তৃতা, স্মারক সম্মাননা ও স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ জলিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতেশ্বরী হোমস এর প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রতিভা মুৎসুদ্দী, ব্র্যাক এর চেয়ারপার্সন স্যার ফজলে হাসান আবেদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড, চ্যানেল আই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরসহ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে খ্যাতিমান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

কবি সুফিয়া কামালের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন মানবাধিকারকর্মী এডভোকেট সুলতানা কামাল। অনুষ্ঠানে বিংশ শতকের বাঙালি জাগরণে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বাঙালির উৎপত্তি থেকে বর্তমান বাস্তবতার তথ্যবহুল চিত্র তুলে ধরেন তার ‘অসাম্প্রদায়িক-মানবিক বাংলাদেশ অন্বেষণ’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতায়। তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক মানবিক বাংলাদেশ এখন অন্বেষণ করতে হয়; এমন বাংলাদেশ বাস্তবে দৃশ্যমান কী না তা নিয়ে সংশয় যুক্তিযুক্ত।

নিজ মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ধনকুবেরে পরিণত হয়েছিলেন রণদাপ্রসাদ সাহা। দেশের উন্নয়ন ও মানবতার কল্যাণে প্রচুর অর্থ দান করে গেছেন এই মহৎপ্রাণ।

রণদাপ্রসাদ সাহা ১৯৩৮ সালে মির্জাপুরে ২০ শয্যাবিশিষ্ট ‘কুমুদিনী ডিস্পেনসারি’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৪ সালে সেটিই কুমুদিনী হাসপাতাল নামে পূর্ণতা লাভ করে। ১৯৪২ সালে তাঁর প্রপিতামহী ভারতেশ্বরী দেবীর নামে ‘ভারতেশ্বরী বিদ্যাপীঠ’ স্থাপন করে ওই অঞ্চলে নারী শিক্ষার সুযোগ করে দেন যা পরবর্তীকালে ১৯৪৫ সালে ভারতেশ্বরী হোমস-এ রূপলাভ করে।

১৯৪৩ সালে টাঙ্গাইলে কুমুদিনী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। পিতার নামে মানিকগঞ্জে দেবেন্দ্র কলেজ স্থাপন করেন। ১৯৪৭ সালে রণদাপ্রসাদ তার সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ মানবসেবায় ব্যয় করার জন্য কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল নামে অলাভজনক প্রাইভেট কোম্পানী নিবন্ধন করেন। মীর্জাপুরে ডিগ্রী মহিলা কলেজ, কুমুদিনী মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৩-৪৪ সালে সংঘটিত পঞ্চাশের মন্বন্তরের সময় রেডক্রস সোসাইটিকে এককালীন তিন লক্ষ টাকা দান করেন এবং ক্ষুধার্তদের জন্য চার মাসব্যাপী সারাদেশে দুইশত পঞ্চাশটি লঙ্গরখানা খোলা রাখেন।

এছাড়াও তিনি টাঙ্গাইলে এস. কে. হাইস্কুল ভবন নির্মাণ এবং ঢাকার কম্বাইন্ড মিলিটারি হসপিটাল (সিএমএইচ)-এর প্রসূতি বিভাগ প্রতিষ্ঠায় আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন।মানবতাধর্মী কাজে সম্পৃক্ত থাকায় তৎকালীন বৃটিশ সরকার রণদাপ্রসাদ সাহাকে রায় বাহাদুর খেতাব প্রদান করেন। পরবর্তীকালে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সরকার মানবসেবায় অসামান্য অবদান রাখায় ও তাঁর কাজের যথাযথ স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মে এই মহান ব্যাক্তি ও তার পুত্র সন্তানকে হানাদার বাহিনী ও রাজাকারেরা অপহরণ করে।

বিজ্ঞাপন