চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের নাম পাল্টালেই কি বর্ণবাদ বিলীন হয়ে যাবে?

ইউনিলিভার তার সবচেয়ে বিক্রিত রঙ ফর্সাকারী ক্রিম ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’র নাম পরিবর্তন করার ঘোষণা দিয়েছে। ক্রিমের নাম থেকে ‘ফেয়ার’ বা ফর্সা শব্দটি বাদ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল ক্রিমের নাম পরিবর্তনে সারা বিশ্বে বর্ণবাদ পরিস্থিতির এমন কোন হেরফের হবে না।

এই রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের বর্ণ বৈষম্যকে উস্কে দেয় বলে ইউনিলিভার দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত হয়ে আসছে। তবে এ সমালোচনা আরো জোরদার হয়েছে সপ্তাহ খানিক আগে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’র এক ঘোষণায়। প্রতিষ্ঠানটি জানায় এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে বহুল ব্যহবহৃত দুটি ক্রিম এর উৎপাদন এবং বিক্রয় তারা বন্ধ করে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েড এর মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদবিরোধী বিতর্ক চাঙ্গা হয়ে উঠলে ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’ ওই ঘোষণা দেয়।

বিজ্ঞাপন

জনসন অ্যান্ড জনসন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, গত কয়েক সপ্তাহের আলোচনা সমালোচনায় বোঝা যাচ্ছে ‘নিউট্রোজেনা’ বা ‘ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ার, কালো দাগ মুছে ফেলতে সাহায্যকারী পণ্যগুলো এমন বার্তা বহন করে যে, কালো বর্ণের চেয়ে সাদা বর্ণ উত্তম। যেটা মানুষকে ভুল বার্তা দেয়। আমরা সচেতনভাবে ক্রেতাকে এ বার্তা দিতে চাইনি। আমরা বিশ্বাস করি সুস্থ ত্বকই উত্তম।’

১৯৭০ সালে বাজারে আসার পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী বিক্রি হয়ে আসছে ইউনিলিভার এর রঙ ফর্সাকারী ক্রিম ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’। ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতে প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ-তরুণী এ ক্রিম কিনে থাকে। বলিউড, টালিউড, ঢালিউডের সেরা তারকারা এসব ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম এর মডেল হয়ে আসছেন।

গত বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম টুইটার এ ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ক্রিমের বিক্রি এবং বিজ্ঞাপন বন্ধে দাবি আসতে থাকে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ইউনিলিভার এর এই ক্রিমের উৎপাদন বন্ধ করতে ন্যূনতম তিনটি প্রচারণা চালু রাখা হয়। প্রচারণাকরীরা বলছেন, এসব পণ্য এবং সেগুলোর বিজ্ঞাপন বিশ্বব্যাপী বর্ণবাদ ছড়িয়ে দেয় এবং উস্কে দেয়।

বিজ্ঞাপন

অবশেষে বৃহস্পতিবার ইউনিলিভার এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পণ্যটির নাম পরিবর্তন হচ্ছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলে নতুন নাম ঘোষণা করা হবে।

এক বিবৃতিতে ইউনিলিভার বলেছে, পণ্যের নাম এ ফর্সা, সাদা, উজ্জ্বল শব্দগুলো ব্যবহার করে প্রকৃত সৌন্দর্যের বিষয়টি প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছিলাম। পণ্যের বিজ্ঞাপন এবং প্যাকেটে সব ধরণের সৌন্দর্য প্রতিনিধিত্ব প্রকাশের সিদ্ধান্তও হয়েছে।

এসব বিষয় মাথায় রেখে গত কয়েক বছরে পণ্যের বিজ্ঞাপনের ভাষাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন, নাম পরিবর্তন করলেও এটা তো শেষ পর্ন্ত রঙ ফর্সাকারী ক্রিম! পণ্যের নাম পরিবর্তনের ঘোষণায় অনেকে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। এটাকে তারা ঐতিহাসিক সাফল্য বলে উল্লেখ করছেন। তবে এক পক্ষ বলছে, এটা হলো নতুন বোতলে পুরাতন মদ।

তাদের মতে, বহুজাতিক কোম্পানীগুলো একই উপাদান দিয়ে একই পণ্য নাম পরিবর্তন করে বাজারে ছাড়বে। ঘোষণাকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তাই প্রশ্ন উঠেছে, পণ্যের নাম পরিবর্তন করলেই ত্বকের রঙ নিয়ে বিদ্যমান মানসিকতায় কি পরিবর্তন আসবে?