চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রক্ত কথা বলে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার প্রমাণ

‘যার পাবার আশা থাকে, তার হারানোর ভয় থাকে’,  এ কথা কতোটা যর্থাথ তার প্রমাণ মিলে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে।  তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পিতা বঙ্গবন্ধুন মতই দেশের স্বার্থে এককভাবে কোন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্থ হন না কোন দিন।

বর্তমান সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের নীতিতে তিনি বদ্ধপরিকর।  নিজের দলের ব্যক্তিদেরকেও এ বিষয়ে ছাড় দিতে নারাজ।  আর তার প্রমাণ মিলে ছাত্রলীগের শোভন রাব্বানীর ঘটনাতে।  নিজের নির্বাচিত ব্যক্তিদের ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রকাশ্যে তুলে এনে হুঁশিয়ার করেছেন আওয়ামী লীগের অন্য অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের।

বিজ্ঞাপন

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর জন্মদিন পালন নিয়ে নেতা কর্মীদের উচ্ছ্বাস থাকাটা স্বাভাবিক।  কিন্তু নিজের দলের লোকদের চাঁদাবাজি আর দুর্নীতির অর্থ দিয়ে জন্মদিনে মিলাদ করার মাঝে তিনি কোন মাহাত্ম্য পান না।  তাই তার জন্মদিন উপলক্ষ্যে যুবলীগের মিলাদ মাহফিল দোয়া ও আলোচনা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভায় তিনি বলেন, “চাঁদাবাজির টাকা বৈধ করতে মিলাদ মাহফিল করা হয়েছে।  এমন মিলাদ মাহফিলের দরকার নেই।”

আর এ কথার প্রাসঙ্গিকতায় যুবলীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।  যেসব বিষয় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ওয়াকিবহাল।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ, সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে তাদের উদ্দেশ্য করে হুঁশিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন , “যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা (ঢাকা মহানগর যুবলীগের একটি অংশের সভাপতি) ক্রসফায়ার থেকে বেঁচে গেছে।  আরেকজন (মহানগর দক্ষিণের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক) এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন।  সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন।  এসব বন্ধ করতে হবে।  যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে বের হয়নি, অস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিবাদ করেনি।

যখন দলের দুঃসময় ছিল তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি।  এখন টানা তিনবার সরকারে আছি।  অনেকের অনেক কিছু হয়েছে।  কিন্তু আমার সেই দুর্দিনের কর্মীদের অবস্থা একই আছে।  যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেন, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন।  তা না হলে, যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে।”

সত্যিকারে বলতে গেলে, একজন মানুষের ভিতর কতটা সততা আর নিষ্ঠা থাকলে চাঁদাবাজি আর দুর্নীতি দমনের জন্য জঙ্গী দমনের পন্থা অনুসরণ করার কথা বলতে পারে তা অনুমেয়।  তার এ কঠোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের মানুষের কাছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুরই প্রতিচ্ছবি।

যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন তাঁর পিতা দেখেছিলেন, সে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তারই কন্যা জীবন বাজি রেখে লড়াই করছেন।  কারণ দেশ আর দেশের মানুষের বাইরে আর কিছু নেই তার।

অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদ করার রক্ত বইছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধমনীতে।  আর সে জন্য নিজের অতি প্রিয় মানুষকে ও শাস্তি দিতে কার্পণ্য করেন না তিনি।  শোভন রাব্বানীকে তিনি’ই ছাত্রলীগের নেতৃত্বের ভার দিয়েছিলেন।  কিন্তু ক্ষমতার দাম্ভিকতায় যখন তারা অন্ধ হয়ে পড়েছে, তখন পদ থেকে অব্যবহিত দিতে এতটুকু দ্বিধা করেননি।

দীর্ঘ সময় ধরে এককভাবে ক্ষমতাসীন থাকা দল বিপথে চললে তার প্রভাব হিতকর নয়।  আর তা প্রতিরোধ করার মত প্রজ্ঞা রয়েছে শেখ হাসিনার।  তিনি তাঁর বাবাকে দেখেছেন যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের দুর্নীতিকে দমন করতে কঠোর হতে।

বিজ্ঞাপন

বাস্তবতার নির্মমতা হলো বলিষ্ঠ সততার মূল্যায়ন এ দেশে হয়নি।  কিছু কুলাঙ্গার হত্যা করেছে জাতির পিতাকে।  কিন্তু নিজের পরিবারের সবাইকে হারিয়ে ও শেখ হাসিনা আজ অবধি পিছ পা হননি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে।

অতীত ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের পূর্নগঠনে বঙ্গবন্ধুকে সম্মুখীন হতে হয়েছিল নানা প্রতিবন্ধকতার।  যার মধ্যে অন্যতম ছিল অনিয়ম, দুর্নীতি, চোরাকারবারি।  দেশের মানুষের মুখে ভাত তুলে দিতে যখন বঙ্গবন্ধু সারাবিশ্বের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে ব্যস্ত তখন অসাধু ব্যক্তিরা অনিয়ম করে নিজেদের পকেট ভারী করতে থাকে।  এমন অবস্থা দেখে ১৯৭৩ সালের ৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু তার এক বক্তব্যে বলেন – “এখনো কিছুসংখ্যক লোক, এত রক্ত যাওয়ার পরেও যে সম্পদ আমি ভিক্ষা করে আনি, বাংলার গরীবকে দিয়ে পাঠাই, তার থেকে কিছু অংশ চুরি করে খায়। এদের জিহ্বা যে কত বড়, সে কথা কল্পনা করতে আমি শিহরিয়া উঠি।  এই চোরের দল বাংলার মাটিতে খতম না হলে কিছুই করা যাবে না। আমি যা আনব এই চোরের দল খাইয়া শেষ করে দেবে।  এই চোরের দলকে বাংলার মাটিতে শেষ করতে হবে।”

অর্থনৈতিক মুক্তির সে লড়াইয়ের আভ্যন্তরীণ শত্রুরা অন্যায় কাজ করে যাচ্ছে আজ অবধি।  তারা নানা রূপে নানা বেশে আছে প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে।

তাই জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ সুদীর্ঘ ভাষণে নিজের সফলতা ব্যর্থতাসহ দেশের মানুষের করণীয় বিষয়ে তুলে ধরেছিলেন।  এটি ছিল তার জীবনের শেষ ভাষণ ।  যাকে তৎকালীন পত্রিকায় ‘বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির ব্যাখ্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।  সে ভাষণে তিনি দুর্নীতিবাজদের কঠোরভাবে দমন করতে সরকারের পাশাপাশি জনগনকে সজাগ হতে বলেছিলেন।

সেদিনের ভাষণে সমাজের চিত্রকে তুলে ধরে বলেছিলেন কারা দুর্নীতিবাজ।

“…..আজ কে দুর্নীতিবাজ? যে ফাঁকি দেয়, সে দুর্নীতিবাজ।  যে ঘুষ খায়, সে দুর্নীতিবাজ।  যে স্মাগলিং করে, সে দুর্নীতিবাজ।  যে ব্ল্যাক মার্কেটিং করে, সে দুর্নীতিবাজ।  যে হোর্ড করে সে দুর্নীতিবাজ।  যারা কর্তব্য পালন করে না, তারা দুর্নীতিবাজ।  যারা বিবেকের বিরুদ্ধে কাজ করে, তারাও দুর্নীতিবাজ।  যারা বিদেশের কাছে দেশকে বিক্রি করে, তারাও দুর্নীতিবাজ।  এই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম শুরু করতে হবে।”

এ দুর্নীতিবাজদের নির্লজ্জ আচরণ দেখে আক্ষেপের সুরে তিনি আরো বলেন:

“……এই দুর্নীতিবাজদের যদি খতম করতে পারেন, তা হলে বাংলাদেশের মানুষের শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ দুঃখ চলে যাবে।  এত চোরের চোর, এই চোর যে কোথা থেকে পয়দা হয়েছে তা জানি না।  পাকিস্তান সব নিয়ে গিয়েছে কিন্তু এই চোর তারা নিয়ে গেলে বাঁচতাম।  এই চোর রেখে গিয়েছে।  কিছু দালাল গিয়েছে, চোর গেলে বেঁচে যেতাম।”

প্রকৃতভাবেই বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতির জন্য সঠিক কথা বলেছিলেন।  যদি পাকিস্তান চোরদের নিয়ে যেত তাহলে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার পথ এতটা বন্ধুর হতো না।  ১৯৭৫ সালে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধের লড়াইটা আজও থামেনি।  বরং এ ৪৪ বছরে তারা সমাজের রাঘব বোয়াল হয়ে শোষণ করছে দেশকে।  উন্নয়নের পথে কন্টকময় হয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করছে শেখ হাসিনার সরকারকে বারবার ।  যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭৫ সালের সে ভাষণেরই পুনরাবৃত্তি ঘটছে ২০১৯ সালে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার কণ্ঠে।

সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি পথে দুর্নীতিবাজদের দমন ছাড়া গত্যন্তর নেই এটা ধ্রুবতারার মতই সত্য।  আর সে সত্যকে বাস্তব রূপ দিতে শেখ হাসিনার দৃঢ়তাই জনগণের একমাত্র ভরসার স্থল।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View