চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ওসি

হতদরিদ্র বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা আনার জন্য স্ত্রীকে রীতিমতো চাপ দিচ্ছিলেন স্বামী। স্ত্রী অপারগতা প্রকাশ করায় নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। গত মঙ্গলবার স্ত্রী শান্তা স্বামী আইয়ুব নবীর কাছে রান্না করার জন্য ডিম কেনার টাকা চান। এতেই ক্ষিপ্ত হয় স্বামী। বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চালায় নির্যাতন। এক পর্যায়ে স্ত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় পাষণ্ড স্বামী। তাৎক্ষণিক পুড়ে যায় শরীরের অর্ধেক অংশ।

পরে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়। একপর্যায়ে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর চিকিৎসার সব ব্যয়ভারের দায়িত্ব নেন গোপালপুর থানার ওসি।

বিজ্ঞাপন

এই মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পাথালিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর বড় ভাই আব্দুল লতিফ বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় যৌতুকের দাবিতে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি হলেন গৃহবধূর স্বামী আইয়ুব নবী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, তিন সন্তানের জননী শান্তা আখতারকে (৩০) যৌতুকের জন্য স্বামী আইয়ুব নবী প্রায়ই নির্যাতন করতেন। গত মঙ্গলবার সকালে আইয়ুব শান্তাকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেয়ার চাপ দেন। শান্তা যৌতুকের টাকা এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। এ সময় আইয়ুব বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেশীরা দগ্ধ শান্তাকে প্রথমে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীম আল রাজী জানান, শান্তার দুই হাত, গলা এবং পেট থেকে পুরো বুক পুড়ে গেছে। অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার সেখানে তার অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের কথা বলা হয়।

গোপালপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শান্তার ভাইয়েরা খুবই দরিদ্র। ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করার সামর্থ্য তাদের নেই। অর্থাভাবে তার পরিবার বুধবার বিকালে শান্তাকে পুনরায় গোপালপুরের বাড়িতে নিয়ে এসে কবিরাজী চিকিৎসা শুরু করে। খবর পেয়ে আমি শান্তাদের বাড়িতে যাই এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেই এবং বোনটিকে রাতেই ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠিয়েছি। আসামী পলাতক রয়েছে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শান্তার বড় ভাই আব্দুল লতিফ বলেন, টাকা যোগাড় করতে না পেরে বোনকে ঢাকায় না নিয়ে বাড়িতে ফেরত নিয়ে এসে কবিরাজি চিকিৎসা চালাই। পরে খবর পেয়ে ওসি মুমূর্ষু বোনকে দেখতে যান। সেই সময় আমাদের অবস্থা জেনে তাকে নিজের বোন সম্বোধন করে চিকিৎসার সকল দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছেন।