চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যে প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যে নিখোঁজের হিসাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে যুক্তরাজ্যে নিখোঁজের যে হিসাব দিয়েছিলেন তার সূত্র ব্রিটিশ দৈনিক  ইন্ডিপেনডেন্ট। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাজ্যে ২০০৯ সালে ২.৭৫ লাখ মানুষ নিখোঁজ হন। যুক্তরাষ্ট্রেও অনেক মানুষ নিখোঁজ হওয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কোন সূত্রে প্রধানমন্ত্রী এমন তথ্য দিয়েছিলেন তার অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর একটি প্রতিবেদন।

২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর ইন্ডিপেনডেন্ট ওই প্রতিবেদনে জানায়, আগের এক বছরে দুই লাখ ৭৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে ২০ হাজারের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছিলেন ডেভিড রানডাল এবং গ্রেগ ওলাটন।

ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়: ব্রিটেন, এক বিস্ময়কর জায়গা! প্রতিদিন ১৩০ লাখ সিসিটিভি পুরো ব্রিটেনকে মনিটর করে। প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র, তাদের সব তথ্যের ডেটাবেস রয়েছে, রয়েছে ক্রেডিট কার্ড। এছাড়া ফেসবুক, ইমেইল, গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) তো রয়েছেই। আপনারা হয়তো ভাববেন, এর ভেতরে কারও পক্ষে আড়ালে থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু সম্ভব, তাও আবার আশঙ্কাজনক হারে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যারা নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের পরিবার এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে তৈরী করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বৃটেনের নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা এখন অতীতের যেকোন সময়ের থেকে বেশি।

সমীক্ষায় দেখা যায়, ওই বছর দুই লাখ ৫০ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে যা যেকোন বছরের চেয়ে ৩০ হাজার বেশি। সব মিলিয়ে মোট নিখোঁজের সংখ্যা হবে দুই লাখ ৭৫ হাজার।

ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়: ব্রিটেনে প্রতি দুই মিনিটে একজন মানুষ নিখোঁজ হন। তবে এসব নিখোঁজদের মধ্যে অধিকাংশই দ্রুত ফিরে আসেন, কিন্তু অনেকেই আর ফেরেন না।

যুক্তরাজ্যে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন
যুক্তরাজ্যে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন

নিখোঁজের অনেকে দশ বছরের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। বলা হয়, এক বছরের বেশি সময় ধরে নিখোঁজের সংখ্যা ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ২০ হাজারের মতো।

নিখোঁজদের একজন মেলানি হলকে ১৯৯৬ সালে একটি নাইট ক্লাবে শেষ বারের মতো দেখা গিয়েছিলো। ২০০৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, সপ্তাহ খানেক আগে তার কিছু ব্যক্তিগত জিনিসের সন্ধান দেয় এম-ফাইফ। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তার পিতা-মাতা তার ফিরে আসার অপেক্ষা করেছিলেন। পরে জানা যায়, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ব্রিটেনের বিভিন্ন হাসপাতাল এবং মর্গে প্রায় এক হাজারের মতো অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃতদেহ পড়ে ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বলা হয়, এমন অনেক মৃতদেহ প্রায় কয়েক বছর ধরে ছিল যাদের নাম, পরিচয় জানা যায়নি এবং কেউ এসে শনাক্তও করেনি।

‘দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারকে ভয়াবহ মানসিক ও আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাদের কর্মস্থল তাদেরকে জীবিত অথবা মৃতের মাঝামাঝি হিসেবে বিবেচনা করছে, তাদের বেতন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। ডেটা প্রটেকশন আইন থাকার কারণে তাদের বিষয়ে কোন বিষয় নিয়ে সাহায্যও কামনা করা যাচ্ছে না। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে উঠছে একটি রহস্য: তাদের আসলে কি হয়েছে? কেন হয়েছে?’

এভাবে অসংখ্য মানুষের হারিয়ে যাবার ঘটনা, সর্বশেষ দেখা যাওয়ার তথ্য এবং আর কখনোই ফিরে না আসার তথ্য ইন্ডিপেনডেন্টের চার হাজারের বেশি শব্দের প্রতিবেদনে কেস স্টাডি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, অন্য দেশেও গুম হচ্ছে। গুম তো বহুভাবেই হচ্ছে। অনেকে ফেরতও আসছে। কিন্তু ফেরত আসা বা খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে বড় করে খবর হয় না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৯ সালের একটি হিসাবে ব্রিটেনে ২ লাখ ৭৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক গুম হয়ে গেল। তার মধ্যে ২০ হাজারের কোন হদিসই পাওয়া গেল না। আমেরিকার অবস্থা আরও ভয়াবহ। বাংলাদেশ ১৬ কোটি মানুষের দেশ। এইটুকু ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে এত মানুষের অবস্থান। তাদের সেবা ও আর্থসামাজিক উন্নতি আমরা করে যাচ্ছি। অথচ এই উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা কত। তাদের সব কিছু আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন, তারপরও সেই দেশে এত লোক গুম হয়, তার খোঁজ পাওয়া যায় না। সেই তুলনায় আমরা অবস্থা অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে রেখে যখন কোনো ঘটনা ঘটছে সঙ্গে সঙ্গে খোঁজ নিচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন