চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যেসব কারণে শেখ হাসিনাকে মনে রাখবে বাংলাদেশ

শেখ হাসিনাকে কেন মনে রাখবে বাংলাদেশের মানুষ? প্রশ্নটা এমনভাবে না করে বরং বলা যায়, শেখ হাসিনাকে কেন মনে রাখা উচিত? এই প্রশ্নের উত্তরে যাওয়ার আগে আমার নিজে দেখা ইতিহাসের আলোকে প্রারম্ভিক আলোচনা সেরে নিতে চাই। হয়ত এটাই হবে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সূচনা।

২০০৬ সাল, অক্টোবর মাস। আমি তখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পাশাপাশি ইউএনবিতে কাজ করি। বাড়িতে গেছি ঈদের ছুটিতে। তিনদিনের ছুটি। ঈদের আগের দিন, ঈদের দিন আর পরের দিন। সাংবাদিকতায় আমার গুরু শ্রদ্ধেয় শামীম আহমেদ ফোন দিয়ে বললেন, দ্রুত ঢাকায় আসতে। আমি যেন কোনোভাবেই দেরি না করি। ঈদের পরের দিন কিংবা এর পরের দিন ঢাকায় ফিরে এলাম। তারিখটা মনে আছে, ২৭ অক্টোবর। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠা নিয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সমাবেশে হাজির হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মূল দাবি ছিল ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে তার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বিচারপতি কে এম হাসানকে নিয়োগ প্রদান না করা। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বিঘ্ন করতে কঠোর আন্দোলনে না গিয়ে উপায় ছিল না। কারণ কে এম হাসান এক সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। দলীয় ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বিএনপি সংবিধান সংশোধন করে বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা বাড়িয়ে দিয়েছিল। আরও অনেক কুকর্ম করেছিল বিএনপি-জামাত জোট। এক কোটির উপর ভুয়া ভোটার বানিয়ে রেখেছিল ভোটার তালিকায়। সেই তালিকা বাতিল করে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভুয়া ভোটারমুক্ত একটা ভোটার তালিকা প্রণয়নে সামনে থেকে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। যার ফলশ্রুতিতে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও মাঝখানে শেখ হাসিনাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে কত ষড়যন্ত্র!। মাইনাস ফর্মুলা ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের। লন্ডন থেকে আসতে বাধা, দুর্নীতির ভুয়া অভিযোগে গ্রেফতার কোনো কিছুই শেখ হাসিনাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। জেলে গেছেন। নির্জন জেলে বসে ধ্যান করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু কন্যা-শেখ হাসিনার জন্মদিন মুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগকে নিয়ে ছুটেছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। ব্যক্তিগতভাবে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল শেখ হাসিনার প্রতিটি নির্বাচনী সফর সশরীরে উপস্থিত থেকে লেখালেখি করার। আমার ধারনা, জেলে থাকতেই শেখ হাসিনা সমস্ত পরিকল্পনা করে ফেলেছিলেন। মুক্ত হয়ে কীভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন, সেই মহাপরিকল্পনা কারাগারে নিদারুন কষ্টের মধ্যেই করে রেখেছিলেন, এটা আমার ব্যক্তিগত ধারনা। আওয়ামী লীগ যে সামনের নির্বাচনে ভালো ফল করতে যাচ্ছিল, সেটি নির্বাচনী সভাগুলোতে মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখেই আমি বুঝতে পারছিলাম। তবে বিজয় যে এত বড় হবে সেটি ছিল কিঞ্চিত অভাবনীয়।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের গবেষণা সেলের দায়িত্বে থাকা, পরবর্তীতে কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করা মরহুম মাহবুবুল হক শাকিল একদিন দেখে বললেন, ‘তুমি তো বিখ্যাত হয়ে যাবা। প্রস্তুতি নাও”। আমি বুঝতে পারিনি। আওয়ামী লীগ বিটের মুরুব্বী সাংবাদিক প্রদীপ সিংহ রায় ছিলেন সামনে। সুধাসদন থেকে বের হয়ে লেকের পাড়ে চা খেতে খেতে দাদাকে জিজ্ঞেস করলাম শাকিল ভাই এর কথার মানে কী? দাদা হেসে বললেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার মানে হল ইউএনবি থেকে প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া টিমে আমি অফিসিয়ালি সংযুক্ত হব! আমি তখনো বুঝতে পারিনি কী অভিজ্ঞতা আসতে যাচ্ছে জীবনে। যাই হোক ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি তারিখে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের দায়িত্ব নিলেন শেখ হাসিনার। চারদিকে একটা ঈদ ঈদ ভাব।

২১ আগস্ট এর গ্রেনেড হামলায় মারা যেতে পারতেন শেখ হাসিনা। রাখে আল্লাহ, মারে কে? শেখ হাসিনার উপর ২১ আগস্ট এর আগেও অনেক হামলা হয়েছিল। তিনি প্রতিবারই বেঁচে ছিলেন। ২০০৯ সালে ষড়যন্ত্রকারীরা অন্য পথে প্রতিশোধ নিতে চাইল। যেদিন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করল সেদিন কি কেউ ভাবতে পেরেছিল ফেব্রুয়ারি মাসের ২৫/২৬ তারিখে কী ঘটতে যাচ্ছে? এখনকার বিজিবি তখন বিডিআর নামে পরিচিত ছিল। ২৪ ফেব্রুয়ারি ছিল বিডিআর এর বার্ষিক অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি। দারুণ কুচকাওয়াজ হল। আমি প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া টিমের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। বয়স কম হলেও দায়িত্ব তো অনেক। আমার মাধ্যমে ইউএনবি তথ্য পাবে, সেই তথ্য ইউএনবির মাধ্যমে পুরো বিশ্বে যাবে! উত্তেজনা থাকলেও খুব দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করতে হত। প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। ১/১১ এর সময় উনার কাছ থেকে ফোনে, দেখা করে স্টোরি করার অভিজ্ঞতা আমার ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে উনার সাথে এত অল্প বয়সে লাগতার কাজ করা আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রেস সেক্রেটারির সাথে আমার বয়সের পার্থক্য বাবা-ছেলের মত। ফলে অন্য সাংবাদিকরা উনাকে ভাই বললেও, আমি স্যার বলতাম। ভুল করার কোনো সুযোগ ছিল না। পুরো ১/১১ কাভার করিয়ে ইউএনবির সিওসি শামীম আহমেদ আমাকে রেডি করে ফেলেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

যাই হোক, সেদিন বিডিআর এর অনুষ্ঠান শেষ করে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে বাসায় ফিরে রাতে ঘুমিয়ে পরের দিন সকাল আনুমানিক ৯ টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে পুরনো ধানমণ্ডি যাওয়ার পথে পিলখানার গেইটে মনে হল পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। পাবলিক আতঙ্ক আর আগ্রহ নিয়ে গেইটের দিকে তাকিয়ে কী যেন বোঝার চেষ্টা করছে। আমি ভাবলাম, হয়ত কোনো মহড়া হচ্ছে, তাই পাবলিকের এই কিউরিসিটি। আওয়াজ আসছিল ভেতর থেকে। আমি রিকশা থেকে পার্টি অফিসের সামনে নেমে গেলাম। পরিস্থিতি খারাপ বুঝতে পেরে অন্য রাস্তা ধরে বাসায় আসার সময় শামীম ভাইকে ফোন করে বলি। শামীম ভাই আমাকে আশেপাশে থাকতে বললেন। ততক্ষণে অনেক কিছু ঘটে গেল। পরেও ঘটল। বিডিআর মিউটিনির নামে সেখানে হত্যাকাণ্ড ঘটছিল। জাতির মেধাবী সন্তানদের হত্যা করা হচ্ছিল। সোজা ভাষায় বিডিআর এর উন্মাদ জওয়ানরা সেনাবাহিনীর অফিসারদের হত্যা করছিল। কী কঠিন পরিস্থিতি! প্রধানমন্ত্রী তখন যমুনায় থাকতেন। কী টেনশন! পিজিআর ভারি অস্ত্র নিয়ে পাহারা দিচ্ছে যমুনার চারপাশে। সেদিকে আর্মি সাঁজোয়া যান নিয়ে পিলখানার বাইরে অবস্থান করছে। সেদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার ছাত্রলীগ কর্মী প্রস্তুত! নেত্রীর যদি কিছু হয়! পুরো দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যাওয়ার অবস্থা! যাই হোক, শুধু একটা কথা বলে এই প্রসঙ্গ শেষ করে সামনের দিকে যাব। সেদিন জাতিকে গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা করেছিলেন শেখ হাসিনা। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটকে শুরুতেই পঙ্গু করে দেয়ার মানসে বিডিআর এর বিদ্রোহ ঘটানোর হয়েছিল। সেই কঠিন সময়কে জয় করে জাতিকে সঠিক পথে তুলে এনে শেখ হাসিনা পুরো দেশকে বদলে দিয়েছেন গত ১১ বছরে। শেখ হাসিনা মূলত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকেই বাস্তবায়িত করছেন। বঙ্গবন্ধু পারেননি; কারণ বঙ্গবন্ধুকে পারতে দেয়া হয়নি। জাতির পিতাকে হত্যা করে বাংলাদেশকেই হত্যার চেষ্টা করেছিল মার্কিন-পাকিস্তান চক্র। ৮১ সালে স্বদেশে ফিরে শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে কী লাভ করেছেন? এই প্রশ্নটা শেখ হাসিনার মিত্র ও শত্রু, সকলের কাছেই রাখলাম। বাবার লাশ তো দেখতেই পারেননি। বিদেশ থাকায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। ৬ বছর শেখ হাসিনাকে দেশে আসতে দেননি জিয়াউর রহমান। অবশেষে দেশে যখন এলেন তখন শেখ হাসিনা রাস্তায় বসে কোরআন শরীফ পড়েছেন ধানমণ্ডির ৩২ নং বাড়ির সামনে। বাড়ির ভেতরে যেতে দেয়নি সামরিক শাসকের প্রশাসন।

৮১ সালেই আমার জন্ম। আমরা দেখেছি এরশাদ দেশের রাষ্ট্রপতি। ৮১ থেকে ৯০।

বড় হতে হতে আমরা বিটিভি আর ইত্তেফাকের মাধ্যমে পরিচিত হয়েছি এরশাদের সাথে। ৮৮ সালে বন্যার সময় বিটিভিতে ‘তোমাদের পাশে এসে বিপদের সাথী হতে আজকের চেষ্টা অপার। তোমাদের সাথে মিশে সব ব্যথা বুকে নিয়ে আমিও যে হব একাকার……. আজকের চেষ্টা অপার’ ‘শীর্ষক গান বাজত। গামবুট পরে এরশাদ বন্যার পানিতে হেঁটে চলেছেন, এই দৃশ্য দেখে কিশোর আমি ভাবতাম আহারে কত ভালো মানুষ! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বড়ভাই যখন বাড়িতে এসে গল্প করতেন এরশাদ সম্পর্কে তখন এরশাদের প্রকৃত স্বৈরাচারী চেহারা জেনে বিস্মিত হতাম। যাই হোক, ৮১ সালে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা নিজে কী লাভ করেছেন? উনি মূলত বাংলাদেশের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকে তিনি শুধু নিজের বাবা হিসেবে নন, বাঙালি জাতির পিতা হিসেবে, বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম মানবতাবাদী নেতা হিসেবে অনুধাবন করে তার হত্যাকারীদের বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করেছেন। শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির জন্য ঐতিহাসিক বিষয় এটি।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হিসেব করলে সরকারপ্রধান হিসেবে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন শেখ হাসিনা। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সাল থেকে। সেবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলো ছিল: ভারতের সঙ্গে সাথে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং-সম্পূর্ণতা অর্জন। এছাড়া, তিনি কৃষকদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং ভূমিহীন, দুস্থ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি চালু করেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: দুস্থ মহিলা ও বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্কদের জন্য শান্তি নিবাস, আশ্রয়হীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প। ২০০৯-২০১৩ মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩,২৬০ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ, গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, ৫ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরণ, ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক জলসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড এবং ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা, বিনা জামানতে বর্গাচাষীদের ঋণ প্রদান, চিকিৎসাসেবার জন্য সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৩৮.৪ থেকে ২০১৩-১৪ বছরে ২৪.৩ শতাংশে হ্রাস, জাতিসংঘ কর্তৃক শেখ হাসিনার শান্তির মডেল গ্রহণ ইত্যাদি।

২০১৪ সালের পর এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, ভারতের পার্লামেন্ট কর্তৃক স্থল সীমানা চুক্তির অনুমোদন এবং দুই দেশ কর্তৃক অনুসমর্থন, (এরফলে দুই দেশের মধ্যে ৬৮ বছরের সীমানা বিরোধের অবসান হয়েছে), মাথাপিছু আয় ১,৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণ, দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশে হ্রাস, ৩২ বিলিয়ন ডলারের উপর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন শুরু ইত্যাদি। পরিসংখ্যান দিয়ে শেখ হাসিনার অবদানকে অনুধাবন করা কঠিন। একটা ছোট লেখায় সব কথা বলা যায় না। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখন ১৯০৯ ডলার। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের বেশি। ওই সময়ে হতদরিদ্রের হার কমে শূন্যের ঘরে নেমে আসবে। আর মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ!
গত ১১ বছরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে যে শক্ত ভিত্তি দিয়েছেন তার সুফল এখন চলমান করোনা দুর্যোগে জাতি পাচ্ছে। ১৬/১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। বিশ্বের অন্যতম জনবহুল। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে পুনরায় পিছিয়ে দিয়েছিল। সেই দৈন্যদশা ২০০৯-২০২০, এই ১১ বছরে কাটিয়ে উঠে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মর্যাদা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হয়েই লেখা থাকবে এই সময়টুকু। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মূলত দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেখান থেকে বাংলাদেশকে শেখ হাসিনা যেভাবে বদলে দিয়েছেন তাতে তিনি ৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সরকারপ্রধান হিসেবে অমরত্ব অর্জন করেছেন। করোনার সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের শক্তিশালী দিকটা মানুষের সামনে আবার প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি বিষয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এত বড় দুর্যোগ তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে মোকাবেলা করে চলেছেন। সবার কাছে অনুরোধ থাকবে, সবাই নিজেকেই জিজ্ঞেস করুন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার জীবনে কি কি পরিবর্তন এনেছেন? তাহলেই তাঁকে কেন বাংলাদেশ মনে রাখবে সেটি আরও প্রকটভাবে অনুধাবন করতে পারবেন সবাই।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)