চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যেভাবে চট্টগ্রামে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরল

চারিদিকে শিক্ষার্থীদের অান্দোলনের সংবাদ ঠিক সেসময়ই যেন এক ব্যতিক্রমী সংবাদ দিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি)। নিজের প্রচেষ্টা ও বুদ্ধিমত্তা ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। স্থাপন করেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। কিন্তু কীভাবে তিনি সক্ষম হলেন শিক্ষার্থীদের রাজপথ থেকে ক্লাসে ফিরিয়ে নিতে? সেই বিষয়েই কথা বলেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে। 

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন: অান্দোলনের শুরু থেকেই আমি আমার ম্যাজিস্ট্রেটদের সেখানে পাঠিয়েছি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার জন্য। তাদের বুঝিয়ে বলার জন্য। পরবর্তীসময় তাদের কাছে খোঁজ নিয়ে জেনেছি বিভিন্ন স্কুল কলেজের কারা কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ আন্দোলনে। নেতৃত্ব দেয়া সেই ছেলে-মেয়েগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে ক্লাসে ফিরে যেতে বলেছি।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন শুধু শিক্ষার্থীদের সাথেই নয়, কথা বলেছেন চট্টগ্রামের প্রায় ২শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে। শনিবার সার্কিট হাউজে তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন তিনি। সেখানে চেষ্টা করেন শিক্ষকদের তার মতের পক্ষে নিয়ে আসার এবং অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে বোঝানোর।

পরে শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে সম্মত হয় এবং শিক্ষার্থীরা যে নয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে তার সঙ্গে আরও কিছু দাবি উত্থাপন করে। ব্যক্তিগতভাবে জেলা প্রশাসক নিজেও চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কতিপয় পদক্ষেপ নেন এবং এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই তিনি কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

স্কুলগুলোর সামনে স্পিড ব্রেকার স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার, জেব্রা ক্রসিং বিভিন্ন স্কুল কলেজের সামনে যাত্রী ছাউনি স্থাপন। জেলা প্রশাসকের এ সব দৃশ্যমান পদক্ষেপেই যেনো আস্থা খুঁজে পায় শিক্ষার্থীরা। সম্মত হয় ক্লাসে ফিরে যেতে। বুঝতে পারেন জেলা প্রশাসক তাদের দাবি মানবেন।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বাস দিয়েছেন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সব দাবি মেনে নিয়ে কাজ করার।

স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের রোভার স্কাউটে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া ট্রাফিক আইন মানতে শহরের ১৬টি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের সাথে ১০টি দলে ভাগ হয়ে রোভার স্কাউটের ১৬০জন ছেলে-মেয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ক্লাসে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীরা।

বিকেলে চট্টগ্রামের ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করেন। এ সময় তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে প্রস্তাবিত ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন এবং ধারাবাহিকভাবে তা বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

এ আন্দোলনের শুরু থেকেই জেলা প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের কাজ করে চলা চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি চ্যানেল আই অনলাইন কে বলেন: অন্দোলনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের সাথে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করেছি। দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করেছি আমি। কিন্তু এ আন্দোলনে দেখলাম প্রধানমন্ত্রী দাবি মেনে নেবার পরও বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক উস্কানিতে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর উপরে আস্থা রাখতে পারছিলেন না।

আর তাই আমরা শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। সরকার-প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে দূরত্ব তা পূরণের চেষ্টা করেছি। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক খুব পজিটিভ একজন মানুষ তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া মেনে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে মহানগরীর প্রায় ৩৯টি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে একজন করে প্রতিনিধি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেছে।