চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যেন অসভ্য জাতির পরিচয়ে পরিচিত না হই

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন এবং দলন এ দেশে অনেক পুরনো ঘটনা। যখন যেই ক্ষমতায় থেকেছে আমরা প্রতিপক্ষকে দমন-নির্যাতন করতে দেখেছি। সেটা যেমন প্রকাশ্য রাজপথে ঘটেছে তেমনি ঘটেছে অন্তরালেও। নির্বাচিত সরকারের সময়েও এর ব্যতিক্রম ছিল না, যেমন ব্যতিক্রম নেই এখনও। একইভাবে অতীতে যেমন আমরা সংখ্যালঘুদের নির্যাতিত হতে দেখেছি তেমনি এখনও তা দেখছি। রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সঙ্গে সরকার সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে, আর সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের যে ঘটনা ঘটে, তাদের মধ্যে ভয়ের যে সংস্কৃতি কাজ করে; সেটা ঘটে একদিকে মানুষের নীচতা ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবের কারণে অন্যদিকে সুশাসনের অভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা পাহাড়ে যেমন তেমনি সমতলেও সংখ্যালঘুদের নির্যাতিত হতে দেখেছি। সেটা যেমন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের ক্ষেত্রে ঘটেছে তেমনি ঘটেছে গাইবান্ধার সাঁওতালদের ক্ষেত্রে। নাসিরনগরের ক্ষত শুকানোর আগেই সাঁওতালদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, এখন পর্যন্ত সেখানে তিনজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, উদ্বাস্তু জীবন যাপন করছেন দুই শতাধিক মানুষ, হামলাকারীদের বদলে হাতকড়া পরানো হয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদের। এসবই ঘটছে আমরা যখন মধ্যম আয়ের দেশ আর ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখছি তখন। অসভ্য এসব ঘটনা তখন ঘটছে যখন উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে আমরা আমাদের উন্নতির ঘোষণা দিচ্ছি। কিন্তু, আসলেই কি আমরা উন্নতি করছি? একটা সমাজে যদি নারী এবং শিশু নিরাপদ না থাকে কিংবা যদি ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ে সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি কাজ করে তাহলে বলা যায় না যে আমরা খুব উন্নতি করছি। এরকম ঘটলে বরং সেই সমাজে সভ্যতার অভাব আছে বলেই মনে হয়। বিশ্বে যেন আমরা সেরকম পরিচয়ে পরিচিতি না পাই। বৈষয়িক উন্নতির পাশাপাশি আমরা যেন মন এবং মস্তিষ্কেরও উন্নতি ঘটাই। সামষ্টিক এ উন্নতির জন্য সুশাসনও খুব জরুরি।

বিজ্ঞাপন