চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যেকোনো সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়া একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও নির্বাচন পরবর্তী কিছু সহিংসতার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, কিছু খবর এখনও আসছে। এর মধ্যে অন্যতম নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক গৃহবধূর ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ‌‘‘গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটকেন্দ্রে বাকবিতণ্ডার জেরে ওই রাতে চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের সোহেল, হানিফ, স্বপন, চৌধুরী, বেচু, বাসু, আবুল, মোশারেফ ও ছালাউদ্দিন ৪০ বছর বয়সী এক নারীর বসত ঘর ভাঙচুর করে।

এক পর্যায়ে তারা ওই নারীর স্বামী ও মেয়েকে বেঁধে রেখে তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরদিন ওই নারী ও তার স্বামীকে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী ৯ জনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এখনও পর্যন্ত সুবর্ণচরে গণধর্ষণ মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাসান আলী ভুলুসহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’’

Advertisement

চ্যানেল আই অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘ওই ধর্ষণ ঘটনার মূল হোতা রুহুল আমিনকে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক বলেন: সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনকে অনৈতিক কাজের জন্য সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের এ পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি, এ সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দলের সদিচ্ছার প্রমাণ। অপরাধী যেই হোক, তাকে প্রশ্রয় দেয়ার পরিবর্তে এভাবেই ভবিষ্যতে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আমরা আশা করি। একইসঙ্গে পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হওয়ায় আমরা তাদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

এ ঘটনায় আরও ইতিবাচক দিক হচ্ছে- সোশ্যাল মিডিয়ায় দল-মত নির্বিশেষে সবার জোরালো প্রতিবাদ। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার বিষয়ে শুরু থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এভাবেই ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে বলে আমরা আশাবাদী।

একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেটাও সরকারের সংশ্লিষ্টদের নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দল ও মতের মানুষ থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। তাই নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেই আমরা মনে করি। নোয়াখালীর ঘটনাসহ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাই।