চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, চেয়ারম্যানসহ আটক ৮

ঢাকার ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্বশক্রুতার জেরে ইসরাফিল (৩২) নামে এক যুবককে হাত পা বেঁধে মারধর ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ ৮ জনকে আটক করেছে।

সোমবার দিবাগত রাতে বালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব সূত্রাপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকৃতরা হলেন- বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান (৪৫), তার ভাতিজা সিয়াম (২০), সূত্রাপুর শান্তি কমিটির সভাপতি আব্দুল মজিদ (৭০), মজিদের ছেলে সামছুল হক (৪৫), নাতি সিহাব (১৭), পশ্চিম সূত্রাপুর মসজিদের সভাপতি মজিবর (৭০), রাজন (৩৫), শামীম (২৫), নাছিমা আক্তার (৩২) ও রাশেদা বেগম (২৭)।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পূর্ব শক্রুতার জেরে বালিয়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তার কয়েকজন কর্মী একই এলাকার ইসরাফিল হোসেন নামের এক যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে হাত-পা বেঁধে মারধর করে।

পরে এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ইসরাফিলকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। কিন্তু নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের লোকজন দেশীয় অস্ত্র হাতে তাদের পাল্টা ধাওয়া করে। এতে ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং চেয়ারম্যান মুজিবর রহমানসহ ৮ জনকে আটক করে।

ভুক্তভোগী ইসরাফিলের বড় ভাই আব্দুল আওয়াল বলেন, আমার ভাইকে লোক মারফত বাসা থেকে ডেকে নেয় বালিয়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মজিবর রহমান। পরে তাকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী চৌরাস্তায় নিয়ে লোকজন দিয়ে বেধড়ক মারধর করে এবং একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে ইসরাফিলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান তিনি।

ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মারামারির ঘটনায় বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানসহ ৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন