চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সেজে প্রতারণার ফাঁদ

কখনোই দেশের বাইরে না যাওয়া আলতাফ হোসেন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হিসেবে পরিচয় দিতেন। সেখানে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে চাকরি দেওয়ার নামে তিনি পেতেছেন প্রতারণার ফাঁদ।

যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার নামে গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুল এলাকা থেকে সহযোগী শরীফুল ইসলামসহ (৫৮) আলতাফ হোসেন (৪৮) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মো. কামরুজ্জামান।

সিআইডি জানায়, প্রতারণার প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী কোনো ব্যক্তির সঙ্গে আলতাফ দেখা করতেন দামী হোটেল বা রেস্টুরেন্টে। চলাচল করতেন প্রাডো কিংবা এলিয়েন গাড়িতে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক-প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্টতার কথাও বলতেন অবলীলায়।

যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব বেসরকারী বিমান সংস্থা, নিজের কথিত প্রতিষ্ঠান ‘ভেলা এসোসিয়েটসে’ চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় আলতাফ হোসেন।

এসএসপি কামরুজ্জামান বলেন, আলতাফ আমেরিকা যেতে আগ্রহীদের সঙ্গে সাধারনত দুপুর বেলা দেখা করতেন। এ সময় ঘুমানোর ভান ধরে বলতেন, আমেরিকায় এখন রাত, তাই বাংলাদেশে এসে তার ম্যাচিং হচ্ছে না, এ দেশের আবহাওয়া তার সহ্য হচ্ছে না। রেস্টুরেন্টে গিয়ে ১০ হাজার টাকা বিল হলে হোটেল বয়কে আরো ১০ হাজার টাকা টিপস দিতেন। এর ফলে সাধারণরা আকৃষ্ট হতেন সহজেই।

তিনি বলেন, আলতাফ হোসেন নিজের মায়ের নামে গাজীপুরে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বৃদ্ধাশ্রম করছেন। সেখানে বিনিয়োগ এবং মালামাল সাপ্লাইয়ের কথা বলে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আলতাফ হোসেন কোনো ব্র্যান্ডের জুতার দোকানে লাখ লাখ টাকার ৪০-৫০ জোড়া জুতা অর্ডার করতেন। এর ফলে দোকানের কর্মীরাও তার প্রতি আকৃষ্ট হতেন। বিভিন্ন দোকানের কর্মীরাও প্রলুব্ধ হয়ে টাকা দিয়ে ধরা খেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

তিনি আরো বলেন, এ চক্রে আলতাফের অন্যতম সহযোগী শরীফুল মূলত দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকদের প্রলুব্ধ করে আলতাফের সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতেন। এরপর অবস্থা বুঝে ৩-৫ লাখ থেকে ২০-২৫ লাখ টাকাও আদায় করতেন তারা।

‘এ চক্রে আমরা আরো চারজনের নাম পেয়েছি। তবে অন্তত ১০ জন এ চক্রে জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করছি।’

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে চক্রের সকলকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলেও জানান এসএসপি কামরুজ্জামান।

দু’জন গ্রেপ্তারের খবর শুনেই অন্তত ২০-৩০ জন ভুক্তভোগী আমাদের কাছে এসেছেন। আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগীদেরকে সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

গত ২০ জানুয়ারি শামীম বাসার নামে একজন ভুক্তভোগী কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় দু’জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

আনোয়ার হোসেন নামে একজন ভুক্তভোগী জানান, তার বাড়ি কুষ্টিয়াতে। গত বছর সেপ্টেম্বরে শরীফুলের মাধ্যমে আলতাফের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। একপর্যায়ে অক্টোবরেই আমেরিকা নিয়ে যাবে বলে দ্রুত জরুরী কাগজপত্র এবং ছবি জমা নেয়। মেডিকেল টেস্ট করানোর পর অক্টোবরের ৩ তারিখে তিনি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেন। এরপর থেকেই শরীফুল এবং আলতাফের নাম্বার বন্ধ পাচ্ছিলেন।

Bellow Post-Green View