চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি চীন: এফবিআই

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নীতির ভবিষ্যতের জন্য চীন সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(এফবিআই)।

বিবিসি বলছে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের হাডসন ইনস্টিটিউটে এফবিআই পরিচালক একটি বহুমাত্রিক তদন্ত অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এমন কোনো দেশ নেই যে কিনা যুক্তরাষ্ট্র্রের উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক নীতির জন্য হুমকি, কিন্তু চীন রয়েছে। চীন কমিউনিস্ট সরকার কর্তৃক গুপ্তচরবৃত্তি এবং চোরাবৃত্তির ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য ‘সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী হুমকি‘ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ক্রিস্টোফার রে জানান, চীন বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। তা কখনো সরকারি কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে বা ব্যবসায়ী, শীর্ষ বিজ্ঞানী, উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষাবিদের দিয়ে। যারা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন এবং গোপনীয় তথ্য চুরি করে চীনে পাচার করছে। এক্ষেত্রে চীন তাদের বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের হুমকির মাধ্যমে জোরপূর্ব কাজে লাগাচ্ছে।

তিনি বলেন, চীন কমিউনিস্ট সরকার বিদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিকদের জোরপূর্বক একাজে ব্যবহার করছে এবং মার্কিন করোনাভাইরাস গবেষণাকে অবজ্ঞা করার চেষ্টায় লিপ্ত তারা।

বিজ্ঞাপন

এফবিআই পরিচালক আশঙ্কা করে বলেন, চীন প্রয়োজনীয় যে কোনো উপায়ে বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি হওয়ার জন্য পুরো রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টায় নিয়ে লিপ্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রায় এক ঘণ্টার দীর্ঘ বক্তৃতায় এফবিআই পরিচালক চীনা হস্তক্ষেপের এক নিবিড় চিত্র তুলে ধরেন। সেখানে চীন কীভাবে মার্কিন নীতিকে প্রভাবিত করতে ঘুষ এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তি, তথ্য ও আর্থিক চুরি ও অবৈধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুদূরপ্রসারী চেষ্টা চালাছে তা বর্ণনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছে গেছি, যেখানে এফবিআই প্রতি ১০ ঘন্টা অন্তর চীন-সম্পর্কিত পাল্টা বিরোধী তদন্ত চালাচ্ছে। বর্তমানে সারাদেশে চলমান প্রায় ৫০০ টি সক্রিয় প্রতি গোয়েন্দা তদন্তের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই চীনের সাথে সম্পৃক্ত বলে তিনি জানান।

এফবিআইয়ের পরিচালক এক্ষেত্রে সরাসরি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংর দিকে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করলেন। তার অভিযোগ, চীনা প্রেসিডেন্ট এই আত্মঘাতি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্নায়ু ও বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে। করোনাভাইরাসের সময় তা তীব্র উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে।

করোনাভাইরাসের শুরু থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও হুমকি ধামকি দিয়েছেন এবং মহামারীর জন্য চীনকে দায়ী করে চলেছেন।