চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দায়িত্ব পালনে ‘মানসিকভাবে অক্ষম’ ঘোষণা করে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি

মার্কিন কংগ্রেসে বৃহস্পতিবারের সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে একে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্ধকার এক দিন বলে উল্লেখ করেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ওই ঘটনার উস্কানিদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে পদত্যাগ করেছেন হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও একজন মার্কিন মন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি উঠেছে।

বৃহস্পতিবারের অপ্রীতিকর ঘটনার পর মার্কিন কংগ্রেস ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। স্থাপন করা হচ্ছে ৭ ফুট উঁচু দেয়াল। গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাদে আর কাউকেই আশেপাশে ভিড়তে দেয়া হচ্ছে না। সরে দাঁড়িয়েছেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার এক ভাষণে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মার্কিন কংগ্রেসে হামলাকে অন্ধকার দিন বলে উল্লেখ করেছেন। বাইডেনের মতে বৃহস্পতিবারের ঘটনা ট্রাম্পের শাসনামলের ৪টি অরাজক বছরের যোগফল মাত্র।

বৃহস্পতিবার ক্যাপিটল হিলে সহিংসতা চালানো বিক্ষোভকারীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে মার্কিন পুলিশ। ছবি ও ভিডিও দেখে জড়িতদের খোঁজ চলছে। দোষী প্রত্যেককে খুঁজে বের করার ঘোষণা দিয়েছেন ওয়াশিংটন ডিসি পুলিশের প্রধান।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সংঘর্ষের জন্য সরাসরি দায়ী করে তার অপসারণ চেয়েছেন সিনেটে ডেমোক্র্যটাদের নেতা চাক শুমার। সিনিয়র ডেমোক্র্যাট ও কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিও ট্রাম্পের অপসারণ চেয়েছেন। শুমার ও পেলোসি দু’জনই মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন। ২৫তম সংশোধনীর আওতায় ট্রাম্পকে দায়িত্ব পালনে মানসিকভাবে অক্ষম ঘোষণা করে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে আবারও ট্রাম্পকে অভিশংসনের ঘোষণাও দেন ন্যান্সি পেলোসি।

ট্রাম্পের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে হোয়াইট হাউসের বেশ ক’জন কর্মকর্তা সরে দাঁড়িয়েছেন। পদ ছেড়েছেন মার্কিন পরিবহন মন্ত্রী।

বিক্ষোভকারীদের উস্কানিদাতা হিসেবে ট্রাম্প কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় গণতন্ত্রের জয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জো বাইডেন ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ট্রাম্প ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নিষিদ্ধ থাকবেন। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকলে অনেক বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিজ্ঞাপন