চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট বন্ধে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিশ্বের ৪০ টিরও বেশি দেশ তাদের বিমান সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও বাংলাদেশে এখনো কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মহিবুল হক বলেন, ‘ইউকেতে করোনাভাইরাস এর একটা নতুন ফর্ম নাকি আবিষ্কৃত হয়েছে। এবং সেটা নাকি ছড়িয়ে পড়ছে। সে কারণে পৃথিবীর অনেক দেশ আবার এই বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত এবং সেই সাথে সাথে আমরাও শঙ্কিত।’

‘একই সাথে অনেক দেশ লন্ডনের সঙ্গে তাদের ইয়ার কানেক্টিভিটি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনও এই বিষয়টা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমরা বিষয়টির উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছি। আমরা সময়মতো সিদ্ধান্তটা সবাইকে জানিয়ে দেবো।’

নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিভিন্ন দেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করতে পারলে আমরা কেন পারছি না? সচিব জানালেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ যেমন করছি পর্যালোচনাও করছি। আমরা আমাদের সিদ্ধান্তটা খুব দ্রুত জানাবো, আমরা কি করতে যাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

সচিব বলেন, ‘আমরা কোন দেশের সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করিনি। তারা যেহেতু আমাদের এক্সপ্রেস দিচ্ছে না সে কারণে আমাদের বিমান যেতে পারছে না।’

ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সৌদি আরব গমনেচ্ছুদের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সচিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবে বা বিভিন্ন দেশে যে সমস্ত ফ্লাইটগুলো বন্ধ হয়েছে, যাত্রীদের ভোগান্তি হয়েছে, আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। কারণ এটা তো আমাদের এখতিয়ার বহির্ভূত।’

‘আমরা যেটা করতে পারি, তাদের কোন রকম ফি ছাড়াই, যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আমরা এই টিকিট আবার রিইস্যু করে দেব। তখন তারা কোনো রকম বাড়তি পয়সা ছাড়াই আবার যেতে পারবে।’

অতীতেও যাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ বিমানে এ ধরনের সহযোগিতা ছিল, ভবিষ্যতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান সচিব।

একক মন্ত্রণালয় হিসেবে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন সচিব।

তিনি জানান, গতকাল সোমবার পর্যন্ত ২৯ টা এয়ারলাইনস বাংলাদেশের তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করত। সপ্তাহে যাত্রীবাহী ফ্লাইটে সংখ্যা ছিল ১৯৮ টা। আর কার্গো ফ্লাইটের সংখ্যা ছিল ৭৪ টা। নভেম্বর বিমান পরিচালনা করে ২৯ কোটি টাকা লাভ হয়েছে বলেও দাবি তার।

কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে বিমান ও সিভিল এভিয়েশন মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ আড়াই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আর পর্যটন খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দু হাজার কোটি টাকা বলেও জানান এই কর্মকর্তা।