চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যাদের হাসি চওড়া, যাদের কপাল পুড়ল

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দল

সোমবার একইসঙ্গে বিশ্বকাপ দল, কেন্দ্রীয় চুক্তি ও ‘এ’ দলের জন্য দুটি স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এই দল ঘোষণায় কারও মুখে ফিরেছে হাসি, কেউ হয়েছেন হতাশ! দেখে নেয়া যায় কারা হলেন জয়ী, কেই হলেন পরাজিত!

বিজয়ী যারা
ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ: অবশেষে একবছর পর আবারও জাতীয় দলে ফিরলেন বল টেম্পারিংয়ে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠা স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। কেবল বিশ্বকাপের দলেই নয়, একইসঙ্গে অ্যাশেজের দলে থাকাও নিশ্চিত স্মিথ-ওয়ার্নারের।

বিজ্ঞাপন

তবে একবছর বাইরে থাকায় জাতীয় দলে কতটা খাপ খাওয়াতে পারবেন দুজনে তা নিয়ে কিঞ্চিৎ দুশ্চিন্তা আছে নির্বাচকদের। যদিও আইপিএলে ধুন্ধুমার ব্যাটিং করে ওয়ার্নার দেখিয়ে দিয়েছেন নতুন করে কিছু প্রমাণ করার নেই তার। কিন্তু স্মিথের নিষ্প্রভতা নিয়ে কিছুটা ভাবনা অবশ্যই আছে নির্বাচকদের।

নাথান কোল্টার-নাইল: অজিদের বিশ্বকাপ দলে চমক হয়ে এসেছে নাথান কোল্টার-নাইলের নাম। অতীতে ওয়ানডে দলে ব্যর্থ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিগ ব্যাশে ভালো খেলেছিলেন। সেই ফর্ম দিয়ে যে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাবেন সেটা নিজেও হয়ত ভাবেননি এ অলরাউন্ডার। কেবল বিশ্বকাপ দলেই নয়, কোল্টার-নাইল জায়গা পেয়েছেন কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও!

বিজ্ঞাপন

ছিটকে গেলেন যারা
পিটার হ্যান্ডসকম্ব: হ্যান্ডসকম্বকে দুর্ভাগাই বলা যায়। গত একবছরে দলের চরম দুঃসময়ে কাণ্ডারি হয়ে যারা পথ দেখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াকে, হ্যান্ডসকম্ব তাদের একজন। স্পিন ভালো খেলতে পারেন, ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত। উইকেটকিপিংটাও ভালো জানা। অভিষেক ওয়ানডেতেই পেয়েছেন শতকের দেখা। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পেছনেও ছিল বড় অবদান। কিন্তু এতশত কীর্তির পরও স্মিথের কাছে হেরে গেলেন হ্যান্ডসকম্ব। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে মিডলঅর্ডারে সাবেক অধিনায়কের অভিজ্ঞতাতেই ভরসা রেখেছেন অজি নির্বাচকরা।

তবে হ্যান্ডসকম্বের জন্য সুখবর, অ্যাশেজের দলে বেশ ভালোভাবেই তাকে বিবেচনায় রেখেছেন নির্বাচকরা। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে সক্ষমতার কারণে কেন্দ্রীয় চুক্তির উপরের দিকেই ঠাই মিলেছে তার।

জস হ্যাজেলউড: বিশ্বকাপ পাঁচবার জেতা হয়েছে। অ্যাশেজ জেতাও জরুরী। সেজন্য প্রয়োজন সজীব-সতেজ ক্রিকেটার। এই মারপ্যাঁচে বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়ে গেছেন হ্যাজেলউড। নির্বাচকরা তাকে বিশ্বকাপে রাখেননি। তাদের চাওয়া নিজের সেরাটা যেন হ্যাজেলউড অ্যাশেজেই দেন। অর্থাৎ, বিশ্বকাপের সময় বিশ্রামে থাকছেন এই পেসার।

মিচেল মার্শ: গত সেপ্টেম্বরেও ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সহ-অধিনায়ক। অথচ সেই মিচেল মার্শ এখন বিশ্বকাপ দল তো দূরের কথা, বাদ পড়ে গেছেন চুক্তি থেকেও। ভারত সফর থেকে দুর্ভাগ্যের শুরু। ব্যর্থতার বলয় থেকে বের হতে আইপিএল দলেও নাম লেখাননি। কিন্তু হঠাত করে পরে যাওয়া ফর্ম সর্বনাশ করে ছাড়ল এ অলরাউন্ডারের। সবশেষ শেফিল্ড শিল্ডে অবশ্য দারুণ এক শতক পেয়েছেন। কিন্তু নির্বাচকদের মন গলেনি। চুক্তি থেকে বের করে মার্শকে ‘এ’ দলে রেখেছেন নির্বাচকরা।