চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যত বড় ব্যবসায়ীই হোন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন

আজকে উচ্চ আদালত সড়ক দুর্ঘটনার শিকার রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লাখ টাকা দেয়ার জন্য টাইম লাইন বেঁধে দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আদালত আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন: ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে গ্রিনলাইনের গাড়ি জব্দ করা হবে। গাড়ি নিলামে বিক্রির পর অর্থ পরিশোধ করবেন।
আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও গ্রিনলাইন পরিবহন পা হারানো রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দেয়নি গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। আদালতের ডাকে হাজির হয়ে গ্রিনলাইন পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার জানিয়েছেন: তাদের মালিক চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশে ফিরবেন ৯ এপ্রিল। এই দিক বিবেচনায় নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদেশের তারিখ পিছিয়ে ১০ এপ্রিল ধার্য করেছেন। পা হারানো রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দিতে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের বিষয়ে আজ গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষের আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিবেদন দাখিল করেনি। আদালত আরও বলেন: সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। যত বড় ব্যবসায়ীই হোন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।

বিজ্ঞাপন

রাসেল একটি প্রতিষ্ঠানের ভাড়া গাড়ি চালাতেন। গত বছরের ২৮ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে যাত্রাবাড়ীর হানিফ উড়ালসড়কে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসের চাপায় পা হারান তিনি। এ ঘটনায় রাসেলের বড় ভাই আরিফ সরকার বাসচালক কবির মিয়ার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় গত বছরের ২৮ এপ্রিল মামলা করেন।
উচ্চ আদালতের এই ধরণের কঠোর পদক্ষেপ আইনের শাসনকে সুসংহত করবে। সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত পঙ্গু হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করা অসংখ্য মানুষের বুকে শক্তি জোগাবে। সাধারণ মানুষ আইনের প্রতি আস্থাশীল হবে। বড় বড় ব্যবসায়ী বা বিত্তশালীরা সর্বদা এইসব মামলায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। কিন্তু আজকের রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই ধরণের শাস্তি আপরাধ করার প্রবণতাও কমিয়ে দেবে বলে আমরা মনে করি। আমরা আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই শুধু এই একটি মামলায় নয় সড়ক দুর্ঘটনার সমস্ত মামলা যেনো ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়।

বিজ্ঞাপন

Bellow Post-Green View