চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের হোটেলে খাঁচায় বন্দী বানর ও পাখি দেখে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যে কষ্টের কথা জানালেন ব্রিটিশ পর্যটক

নিরাপত্তা শঙ্কাকে দূরে ঠেলে বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে অন্যরকম এক কষ্ট নিয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন এক ব্রিটিশ পর্যটক। ময়মনসিংহের একটি বিখ্যাত হোটেলে খাঁচায় বন্দী বানর আর পাখি দেখে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠানো ই-মেইলে তিনি এরকম অমানবিকতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

হাইকমিশনে পাঠানো মেইলে জেনিন গ্রিন বলেন, স্যার, জুলাইতে ঘটে যাওয়া সেই নেতিবাচক ঘটনার পরও আমি নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশ ভ্রমণ করি এবং গত শনিবার সেখান থেকে ফিরে আসি।

বিজ্ঞাপন

খুবই খুশি হয়েছি নিজের এমন সিদ্ধান্তে। দেশটির অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং মানুষের আন্তরিকতা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি। কোনো মুহূর্তেই নিজেকে অপ্রস্তুত মনে হয়নি। বরং আমি সবাইকে বলবো বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য।

তবে একটি ঘটনায় আমি খুবই বিরক্ত হয়েছি এবং আশা করছি এই ধরনের ঘটনায় আপনি যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন। 

বিজ্ঞাপন

এরপরে তিনি লিখেছেন, ময়মনসিংহের হোটেল সিলভার ক্যাসেলে আমি ২ রাত ছিলাম। এই হোটেলে কার পার্কিং থেকে মূল ভবনে যাওয়ার মাঝখানে একটি খাঁচা রাখা আছে। যেটা প্রস্থে ২ মিটার, ২ মিটার গভীর এবং ৩ মিটার উঁচু। সেই খাঁচায় ২টি বানর আছে। তাদের একটি প্রাপ্তবয়স্ক, অন্যটি নয়। খাঁচাটিতে শেকলবন্দী রাখা হয়েছিলো তাদের। খাঁচাটিতে একটি ছোট্ট কাঠের বাক্স রাখা আছে, মনে হয় আবহাওয়া খারাপ হলে যেন তারা সেখানে অবস্থান করতে পারে সেজন্য। সঙ্গে একটি পানির পাত্র। এছাড়া এই প্রাণীগুলোর নিজেকে ব্যস্ত রাখার আর কোনো কিছুই সেখানে ছিলো না। এবং আরো বিরক্তিকর ব্যাপার হচ্ছে, মানুষ (এমনকি ওই হোটেলের গেটম্যানও) যাতায়াতের পথে খাঁচাটিতে একটি লাখি মেরে যায়। বিনিময়ে প্রাণীটিও তখন খুবই আক্রমণাত্মক আচরণ করে, যেটা খুবই স্বাভাবিক।

ব্রিটিশ ওই পর্যটক মেইলে এরপরে বলেন, দ্বিতীয় আরেকটি খাঁচার কথা যোগ করতে চাই, সেখানে একটি বড় কালোরঙা পাখি রয়েছে। সেই ছোট খাঁচাটাতে থেকে সে তার পাখাটাও কখনো ডানা ঝাপটানোর সুযোগ পায়না। আর সারাদিন রাত সে কেবল খাঁচার দণ্ডটার উপরই বসে থাকে।

তিনি লিখেছেন: উন্নয়নের কাজে আপনাকে বরাবর দায়িত্বশীল দেখেছি। কিন্তু মনে হয়, উন্নয়ন বলতে এখানে শুধু মানুষের উন্নয়নকেই বোঝানো হচ্ছে। উন্নয়নের প্রচেষ্টা কি প্রাণীদের জন্যও খানিকটা বিস্তৃত করা যায়। এই অবস্থায় কিছু একটা করুন অথবা এমন কারো পরিচয় দিন, যার সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে আমি কথা বলতে পারি। এরই মধ্যে আমি বাংলাদেশের ইন্টারন্যাশনাল অ্যানিমেল রেসকিউ সংস্থার ওয়েবসাইটে একটি কমেন্ট পোস্ট করে রেখেছি। কিন্তু এখনো সেখানে কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি।

‘এত সুন্দর একটি দেশে দেখা প্রাণীদের এই কষ্টের ছবিটা আমার মন থেকে দূর করতে সাহায্য করলে খুবই খুশি হবো। আপনাকে অগ্রিম ধন্যবাদ।’

হোটেল সিলভার ক্যাসেলের বক্তব্য
পর্যটকের এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসে হোটেল সিলভার ক্যাসেলে যোগাযোগ করা হলে হোটেলটির ম্যানেজার এমডি শরীফ বলেন, হ্যা এখানে একটি খাঁচায় একটি বানর এবং আরেকটি খাঁচায় একটি পাখি আছে। অন্য বানরটি হয়তো হোটেলে আগত কারো ছিলো। এমন মন্তব্য প্রেক্ষিতে আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। যথেষ্ট জায়গা আছে আমাদের হোটেলটির। মালিকপক্ষকে জানাবো। তারা নিশ্চয়ই কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।