চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ম্যারাডোনার কিছু স্মরণীয় উক্তি

মারা গেছেন ফুটবল জাদুকর ডিয়েগো ম্যারাডোনা। নিজের ৬০তম জন্মদিন পালনের ২৬ দিনের মাথায় বুধবার আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির মৃত্যু দিবস এপিটাফে লেখার ক্ষণ চলে এলো। ফুটবলবিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে তাকে হারানোর সংবাদ।

মাঠে, মাঠের বাইরে বর্ণিল এক চরিত্র ছিলেন ম্যারাডোনা। কোনদিন, কোনকিছুকেই পাত্তা দেননি। নিজের মতো করে কাটিয়ে গেলেন সারাটা জীবন। ক্যারিয়ার শেষ হবে জেনেও কোকেনের নেশায় বুদ হয়েছেন, কিংবদন্তি বাঁ-পায়ে জাদু থামে তাতে।

বিজ্ঞাপন

জীবন শেষ হবে জেনেও মদের কাছেই সঁপেছেন নিজেকে, সেটাই হল কাল। সুস্থভাবে বাঁচতে ছাড়তে হবে মদের নেশা, কদিন আগে এভাবেই তার পরিবারকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। পরামর্শ মেনে সপ্তাহ দুই আগে পানাসক্তি ছাড়তে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তিও হয়েছিলেন ম্যারাডোনা।

ফুটবলের পাশাপাশি বিতর্ক ছিল তার নিত্যসঙ্গী। মুখের কথায় কতটুকু লাগাম দিতে হয়, সেটা যে জানা ছিল না ম্যারাডোনার! সেজন্যই যা-ই বলতেন, হয়ে উঠত আলোচনা-সমালোচনার খোরাক। যা বলতেন, কখন সেটা ছিল তীব্র তির্যক, কখনো আবার মর্মস্পর্শী।

ম্যারাডোনার তেমন কিছু কথা স্মরণ করা যাক-

‘আমি জানতাম ১৯৭৮ বিশ্বকাপ খেলতে পারবো না। আমি অনেক কেঁদেছিলাম। এরজন্য কোনদিনও সেজারে লুইস মেনোত্তিকে (আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ) ক্ষমা করতে পারবো না, তবে আমি তাকে ঘৃণাও করি না। নিজেকে আমি নতুন করে প্রস্তুত করেছি, আর জাপানের বিপক্ষেই সেটা করে দেখিয়েছি’ -১৮ বছর বয়সী অভিমানী ম্যারাডোনার কথা, ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে খেলতে না পারার আক্ষেপ ফুটে উঠেছে যাতে।

বিজ্ঞাপন

‘আমায় একটা বল দাও, যেকোনো জায়গায় দেখিয়ে দেবো আমি কী পারি!’

‘লোকো গাত্তি (সাবেক গোলরক্ষক), বেচারা। ও আমায় বলেছিল আমি নাকি মোটা! আমি জানতাম না যে রাগ আমার শক্তি। হোর্হে সিজারপিয়ের আমায় বলল, জোড়া গোল করতে। কিন্তু আমি না চার গোল করবো এবং সেটা করেছি!’ টোকিওতে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের সময়ের কথা।

‘ঈশ্বরের হাত। হে হে… এমনকি ফটোগ্রাফাররাও বুঝতে পারেনি কি হয়ে গেল। আর পিটার শিলটন যখন লাফ দিলো, তখন তার চোখ ছিল বন্ধ, খুব রেগে ছিল, আমাকে প্রীতি ম্যাচে আমন্ত্রণ জায়াননি পর্যন্ত। আমি দুটি গোলকেই ভালোবাসি। আমার মনে হয়েছে ইংল্যান্ডের কাছ থেকে ফকল্যান্ডকে কেড়ে নিয়েছি।’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে হাত দিয়ে করা সেই হ্যান্ড অব গড গোলের পর।

‘আমি এই কাহিনী এখানেই শেষ করে দিতে চাই যে, ম্যারোডোনা আর্জেন্টিনায় মাদক আমদানি করেছে।’ ১৯৯০ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ফাইনালে হারের পর।

‘দুঃখিত, কোন নাম্বারের কথা বলছেন? এই মুহূর্তে আমি বিশ্বের দশ হাজারতম ফুটবলার। আমাকে তাই ভাবুন।’ ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার পর এভাবেই বলেছেন নাম্বার১০।

‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে পেলে সেরা, তবে তিনি জানেন না কীভাবে ফুটবল থেকে সুবিধা নিতে হয়। আমার মনে হয় আমরা একসঙ্গে অনেককিছু করতে পারতাম। কিন্তু আমরা আসলেই আলাদা। সমস্যা হচ্ছে চামড়া, আমরা অনেক ঝগড়া করি। আসল সমস্যা হচ্ছে তিনি আমাকে অনেক ভয় পান যে, আমি তার সব অর্জন কেড়ে নেবো। আসলে আমি তা কোনদিনও চাইনি। নাম্বার ওয়ান, সেরাদের সেরা, মানুষদের এসব বলতে দিন এবং হৃদয় থেকে তারা বিষয়টা অনুভব করুক।’ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলেকে নিয়ে।