চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মোবাইল ব্যাংকিং: বাড়ছে লেনদেন

করোনভাইরাসে আক্রান্তের ভয়ে ব্যাংকে গিয়ে লেনদেন করার আগ্রহ অনেকটা কমে গেছে গ্রাহকের। এ কারণে মোবাইল ব্যাংকিংকে লেনদেনের সহজ মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন তারা। ফলে এই মাধ্যমে গ্রাহকসংখ্যা ও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েই চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যানের তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হয়েছে ৪৯ হাজার ১২১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৩৭ কোটি ৩৭ হাজার টাকা। এক মাস আগেও দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

তবে এ পরিসংখ্যানে ডাক বিভাগের ‘নগদ’ এর তথ্য নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, যেকোনো সময় শহর কিংবা গ্রামে সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। করোনার কারণে বিকাশ, রকেট, শিওর ক্যাশ ও নগদের মতো মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা বেড়ে গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। এর প্রসারতা আরো বাড়বে। ছোট গ্রাহকেরা এখন আর ব্যাংকে লেনদেন করে না।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবাও। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেয়া হচ্ছে। ব্যাংক থেকে মোবাইলে ও মোবাইল থেকে ব্যাংকেও লেনদেন করা যাচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা এবং লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এমএফএসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে ১৬টি ব্যাংক। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৪৮ জন, যা মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি। গ্রাহক সংখ্যার সঙ্গে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যাও বেড়েছে। এই মাসে এমএফএস সক্রিয় গ্রাহক গত মাসের চেয়ে ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১০ লাখ ৩৫ জন। আর এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ১৭ হাজার ৫৫ জনে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এমএফএসে রেমিট্যান্স সংগ্রহ বেড়েছে ৫ শতাংশ। এ সময় রেমিট্যান্স এসেছে ১১০ কোটি ১০ লাখ টাকা। ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ১৪ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ ৮৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকায়। বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৯৩৭ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১ হাজার ২৯২ কোটি টাকা।

তবে এই সেবায় উচ্চ হারে চার্জ নেয়ার কারণে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে ক্যাশ আউট বা নগদ উত্তোলনে প্রতি হাজারে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেটে নেয়া হয়। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থেকে ব্যাংকে টাকা স্থানান্তরের চার্জ নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। এ দুটির একটির চার্জ কমানো এবং অন্যটি সম্পূর্ণ ফ্রি করার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকেরা।

মতিঝিলে বিকাশে গ্রামে টাকা পাঠানোর সময় কথা হয় রহমান মিয়া নামের একজন গ্রাহকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ১০ হাজার টাকা পাঠালে ২শ টাকা চার্জ দিতে হয়। অথচ ব্যাংকে ১ লাখ টাকা পাঠালেও কোনো চার্জ দিতে হয় না। এই চার্জ কমানোর দাবি জানাচ্ছি।

বর্তমানে বিকাশের এজেন্ট থেকে নগদ উত্তোলনে প্রতি হাজারে চার্জ ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল প্রদানে ৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত চার্জ দিতে হয়। এ ছাড়া বিকাশ থেকে ব্যাংকে টাকা স্থানান্তরে প্রতি হাজারে ২০ টাকা কাটা হয়।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট সেবায় এজেন্ট থেকে টাকা উত্তোলনে প্রতি হাজারে ১৮ টাকা খরচ হচ্ছে। আর রকেট হিসাব থেকে ব্যাংকের হিসাবে টাকা পাঠানোর খরচও হাজারে ৯ টাকা। তবে এত দিন ডাক বিভাগের সেবা নগদের টাকা উত্তোলনে প্রথম ১ হাজারে অ্যাপের মাধ্যমে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং ইউএসএসডিতে (আনস্ট্রাকচার্ড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডাটা) ১৮ টাকা ৫০ পয়সা খরচ হতো। এখন থেকে প্রতি হাজারে ১১ টাকা ৪৯ পয়সা এবং ইউএসএসডিতে ১৪ টাকা ৯৪ পয়সা কাটা হবে। আগে অ্যাপের মাধ্যমে ২ হাজার ১০০ টাকার বেশি তুললে প্রতি হাজারে ১১ টাকা ৪৯ পয়সা এবং ইউএসএসডিতে ১৪ টাকা ৯৪ পয়সা কাটা হতো।

তবে নগদ-ই টাকা পাঠানোর জন্য কোনো চার্জ কাটে না। নগদ থেকে ব্যাংক হিসাবে এবং ব্যাংক হিসাব থেকে নগদে টাকা আনতেও কোনো খরচ নেই। এ ছাড়া নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল দিতেও কোনো চার্জ লাগে না।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে এই সেবার যাত্রা শুরু হয়। এর পর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ।