চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৬২ জন নিহত

গত মে মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৪১টি। নিহত ৫৬২ জন এবং আহত ৫৪৯ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৮৩, শিশু ৬৬ জন।

২২৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২১৭ জন, যা মোট নিহতের ৩৮.৬১ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৫১.৭০ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১৪৭ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২৬.১৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৮৬ জন, অর্থাৎ ১৫.৩০ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

এই সময়ে ৮টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছে। ৫টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ১ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ঈদে ঘরমুখো যাত্রায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ঘাটে ফেরি থেকে হুড়োহুড়ি করে নামার দুটি ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ৩১ জন আহত হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেয়া হয়।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২১৭ জন (৩৮.৬১%), বাস যাত্রী ৯ জন (১.৬০%), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি যাত্রী ৩৭ জন (৬.৫৮%), মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-এ্যাম্বুলেন্স যাত্রী ৩২ জন (৫.৬৯%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (সিএনজি-ইজিবাইক-অটোরিকশা-টেম্পু) ৭৮ জন (১৩.৮৭%), নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-চান্দের গাড়ি যাত্রী ৩৪ জন (৬.০৪%) এবং প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান-বাইসাইকেল আরোহী ৮ জন (১.৪২%) নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৭৯টি (৪০.৫৮%) জাতীয় মহাসড়কে, ১৫৮টি (৩৫.৮২%) আঞ্চলিক সড়কে, ৬৩টি (১৪.২৮%) গ্রামীণ সড়কে, ৩৫টি (৭.৯৩%) শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৬টি (১.৩৬%) সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন
দুর্ঘটনাসমূহের ৭১টি (১৬.০৯%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬৯টি (৩৮.৩২%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৪৮টি (৩৩.৫৬%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৪৪টি (৯.৫৭%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৯টি (২.০৪%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ
সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৫.৪৪%, সকালে ৩১.৫১%, দুপুরে ১৮.৫৯%, বিকালে ২১.০৮%, সন্ধ্যায় ৭.৯৩% এবং রাতে ১৫.৪১%।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান
দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৬.০৭%, প্রাণহানি ২৫.৬২%, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৬.৫৫%, প্রাণহানি ১৬.১৯%, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৬.০৯%, প্রাণহানি ১৭.৪৩%, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৭.৯৩%, প্রাণহানি ৭.৮২%, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৯.০৭%, প্রাণহানি ৯.৬০%, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৮.৬১%, প্রাণহানি ৯.৯৬%, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৯.৭৫%, প্রাণহানি ৮.৫৪% এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৮৯%, প্রাণহানি ৪.৮০% ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১১৫টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৪৪ জন। সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে। ২৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ২৭ জন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৩২টি দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত। সবচেয়ে কম পঞ্চগড় জেলায়। ৩টি দুর্ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহত হয়নি।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহ
ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি; গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

সুপারিশসমূহ
দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে; চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করতে হবে; বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে; পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা (সার্ভিস লেন) তৈরি করতে হবে; পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে; গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে; রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে হবে; টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে; “সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮” বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন