চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মেয়ে ও নাতি কর্তৃক মারধর: বৃদ্ধ মা-বাবার আশ্রয় হলো হাসপাতালে

অনেক ধরনের নির্যাতনের কথা শোনা গেলেও সন্তান কর্তৃক মা-বাবাকে নির্যাতনের ঘটনা খুব একটা শোনা যায় না। কিন্তু সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ঘটেছে এমনই নির্মম ঘটনা। মৃত্যুর পথে থাকা বৃদ্ধ বাবা ও মাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে মেয়ে ও নাতিরা।

শেষ সম্বল বসত-ভিটা বিক্রি করে নিজের সমস্ত পুঁজির টাকা নিজের মেয়ের হাতে তুলে দিয়েও রক্ষা পেলেন না আব্দুল আহাদ (৮৫) ও তার স্ত্রী দিলবাহার (৭৫)। আহত অবস্থায় বর্তমানে তাদের আশ্রয় হয়েছে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

বিজ্ঞাপন

রোববার রাত ৮টায় তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের লোহাচুড়া শান্তিপুর গ্রামে ঘটেছে এমন নির্মম ঘটনা।

বিজ্ঞাপন

বালিজুড়ি ইউনিয়নের লোহাচুড়া শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বৃদ্ধ আব্দুল আহাদের দুই ছেলে তাদের রেখে অন্যত্র কাজ করে জীবনযাপন করেন। ফলে বৃদ্ধ মা-বাবা লোহাচুড়া গ্রামের ৩শতক জায়গায় বসবাস করে আসছিলেন। যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথরের নৌকায় লোড-আনলোডের কাজ করে যে টাকা আয় হতো তা দিয়েই চলছিল কোনো রকমে বৃদ্ধ দম্পতির। এ অবস্থায় বৃদ্ধের ৩শতক বসতভিটার উপর নজর পড়ে মেয়ে শফিকুন নাহার বেগমের।

দুই বছর আগে শফিকুন নাহার বেগম তার বৃদ্ধ বাবাকে নানাভাবে বুঝিয়ে ৩শতক জমি বিক্রি করার ব্যবস্থা করেন। এরপর ৭০হাজার টাকাসহ মা-বাবাকে তার স্বামীর বাড়িতে আজীবন লালন পালনের শর্তে নিয়ে যান। কিন্তু সম্প্রতি বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ কোনো রকম আয়-রোজগার করতে না পারায় প্রায়ই মেয়ে শফিকুন নাহার মা-বাবার সাথে ঝগড়া শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

এরই ধারাবাহিক গত রোববার রাত ৮টায় মেয়ে শফিকুন নাহার বেগম ও তার মেয়ে, ছেলে মাকছুরা, মুছাব্বির মিলে অমানবিকভাবে তাদের মারধর করে ও ঘর থেকে বের করে দেয়। এমনকি বসতঘর ভাঙচুর করে বিছানাপত্রও ঘরের বাহিরে ছুড়ে ফেলে দেয়।

এই বিষয়ে আহত বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ (৮৫) ও তার স্ত্রী দিলবাহার (৭৫) বলেন, “নিজ পুলাপাইনের হাতে মাইর খাইয়্যা হাসপাতালে আইমু জীবনেও ভাবছিনা। আমার অখন ভিটেমাটি ছাড়া খাওয়ারও কোন যোগাড় নাই“।

এমতাবস্থায় বাকি জীবনটুকু বাঁচাতে তারা সরকারের সহায়তা চান।

এ বিষয়ে মেয়ে শফিকুন নাহার বেগম বলেন, আমরা দুই বোনে ঝগড়াঝাটি করলে মা-বাবা আমার ছোট বোনের পক্ষে থাকেন। মা-বাবাকে আমি মারধর করিনি। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা করেছে।

বালিজুড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ একরামুল হক বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবার সম্পত্তি বিক্রি করে টাকাসহ মেয়ে শফিকুন নাহার বেগম আজীবন লালন পালনের জন্য তার বাড়িতে এনেছিলেন। কিন্তু রোববার রাতে  যেভাবে আব্দুল হক ও তার স্ত্রীকে মারধর করেছে সেটা বলার ভাষা আমার নেই।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডাঃ ইকবাল হোসেন বলেন, রোববার রাতে লোহাচুরা শান্তিপুর গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ ও তার স্ত্রী গুলবাহারকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদেরকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও ওষুধপত্র দেয়া হচ্ছে।