চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মেয়েকে হত্যার দায় থেকে মুক্ত হলেন বাবা-মা

ভারতে সাড়া জাগানো আরুশি হত্যাকাণ্ড মামলায় তার বাবা-মা রাজেশ ও নুপুর তলোয়ারকে খুনের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এই ডাক্তার দম্পতির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারায় তাদের ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দেওয়া হয়।

২০০৮ সালের শুরুতে দিল্লির নয়ডার একটি ফ্ল্যাটে আরুশির মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরে ওই ফ্ল্যাটেরই ছাদ থেকে গৃহপরিচারক হেমরাজের মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

বিজ্ঞাপন

২০১৩ সালের নভেম্বরে সিবিআই আদালতের বিচারক রায় দিয়েছিলেন ওই ঘটনায় আরুশির বাবা মা-ই দোষী। তাদের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজাও দেওয়া হয়। সে দিন থেকেই তলোয়ার দম্পতি দিল্লির কাছে উত্তরপ্রদেশের ডাসনা জেলে বন্দী ছিলেন।

এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিলো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তত দুটি বলিউড সিনেমাও তৈরি হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক অভিরুক সেন একটি বই-ও লিখেছেন এ বিষয়ে।

এই মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই জানিয়েছে, রায় খুঁটিয়ে পড়ে দেখার পর এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে কি না তা  সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কিন্তু আরুশি-হেমরাজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাবা-মা সন্তানকে হত্যা করেছেন, এমন প্রশ্ন উঠা এবং নিম্ন আদালতও সেই অভিযোগ মেনে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ড: তপন চক্রবর্তী, যিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ক্রিমিনোলজিস্ট হিসেবে বহুদিন যুক্ত ছিলেন। আরুশি মামলায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাক্ষ্যও দিয়েছেন তিনি।

ড: চক্রবর্তী বিবিসিকে বলছিলেন, সমাজের একেবারে উঁচুতলায় বিকৃত যৌনতা-সহ নানা ধরনের অভ্যাস, একমাত্র মেয়েকে বাড়িতে রেখে ক্লাবে যাওয়া এবং অনেক বেশি রাতে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ফেরা,  বাবা-মার এসব আচরণের বিরাট মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ে সন্তানের ওপর।

“এক্ষেত্রে মেয়েটি (আরুশি) যেহেতু বয়:সন্ধিতে ছিল, তাই এর জেরে সে নিজেও নানা অবৈধ কাজকর্মে জড়িয়ে পড়েছে, অথবা বাড়ির পরিচারক বা অন্য কারও সাথে সম্পর্ক তৈরি করেছে, এমনটাও হওয়া সম্ভব।  হয়তো তারা পরিচারকের সঙ্গে নিজের মেয়েকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেছিলেন। আবার উল্টোদিকে এমনটাও হতে পারে আরুশি হয়তো তার বাবা-মার এমন কিছু গোপন কথা জেনে ফেলেছিল যেটা সামাজিক বা পারিবারিকভাবে তাদের পক্ষে চরম অসম্মানজনক হত।”

ফলে অপরাধ-বিশেষজ্ঞ তপন চক্রবর্তীর মতে, নানা কারণেই তলোয়ার দম্পতি এমন চরম পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারেন, এমন ধারণা তৈরি হওয়ার সঙ্গত কারণও ছিল। কিন্তু যেহেতু এর কোনও সম্ভাবনাই অকাট্য প্রমাণসহ আদালতে সিবিআই পেশ করতে পারেনি, এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাই রাজেশ ও নুপূর তলোয়ারকে অব্যাহতি দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন