চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মেসি-রোনালদোর খুব কাছে গিয়েও যেজন্য পায়নি আর্সেনাল

দীর্ঘ ২৪ বছর আর্সেনালের হয়ে কাজ করার পর দলটির হেড অব রিক্রুটমেন্ট বা খেলোয়াড় নিয়োগ প্রধান হিসেবে গত মাসে অবসরে গেছেন ফ্রান্সিস ক্যাগিগাও। গানারদের একসময়ের খেলোয়াড় ২৩ বছর কাজ করেছেন কেবল স্কাউট হিসেবেই, ক্লাবের জন্য তুলে এনেছেন দারুণ সব প্রতিভা। প্রতিভাবান সব ফুটবলার উপহার দিলেও ক্যাগিগাও আফসোস করেন দুজনে জন্য। যাদের নাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি!

একজন স্কাউট হিসেবে সবসময় ইউরোপ ও সাউথ আমেরিকান যুব দলগুলোর দিকে নজর রাখতেন ক্যাগিগাও। লক্ষ্য রাখতে গিয়ে একটা দলের দিকে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয় সাবেক আর্সেনাল খেলোয়াড়ের। তা হল বার্সার অনূর্ধ্ব-১৬ দল। ক্যাগিগাওয়ের মতে, লা মাসিয়ার যে দলটি ছিল সর্বকালের সেরা অনূর্ধ্ব-১৬ দল।

বিজ্ঞাপন

বার্সার সেই অনূর্ধ্ব-১৬ দলের লিওনেল মেসি, সেস ফ্যাব্রেগাস ও জেরার্ড পিকে- এই ত্রিরত্নকে খুব করে দলে আনার জন্য চেষ্টা করেছেন ক্যাগিগাও। সেসময় স্পেনে তিনি আর্সেনালের প্রধান স্কাউট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। মেসি-ফ্যাব্রেগাস ও পিকের যে বোঝাপড়াটা ছিল, তিনজনকে এক দলে খেলাতে পারলে সেটা বিরাট কিছু হতে পারে বিবেচনায় তাদের উত্তর লন্ডনে আনতে চেয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তিনজনকে আনতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ২০০৩ সালে ফ্যাব্রেগাসকে লন্ডনে আনতে পেরেছিলেন ক্যাগিগাও। মেসি ও পিকের আর্সেনালে যোগ দেয়ার ইচ্ছা ছিল বলে গোল ডটকমকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। ওয়ার্ক পারমিট জটিলতায় ত্রিরত্নকে এক দলে খেলাতে না পারার আফসোস রয়ে গেছে তার।

‘আমরা মেসিকে নজরে রেখেছিলাম। আমরাই একমাত্র দল ছিলাম না। আমার মনে আছে স্প্যানিশ ক্লাব তো বটেই, কয়েকটা ইতালিয়ান ক্লাবও মেসির ব্যাপারে আগ্রহী ছিল।’

বিজ্ঞাপন

‘মেসি তখন আর্জেন্টিনায় খেলতে পারত না। বার্সেলোনার হয়ে আঞ্চলিক ম্যাচগুলো খেলত। তার সঙ্গে যখন আমাদের কথা হয়েছে, মনে হয়েছে তাকে আনতে পারার ব্যাপারে খুব ভালো একটা সম্ভাবনাই আছে আমাদের।’

‘কিন্তু যখন আমরা পরিস্থিতির গভীরে প্রবেশ করা শুরু করলাম, আইনি জটিলতা দেখে মনে হল এটা হবেই না, একেবারে অসম্ভব। তখন আমরা যা চাইছিলাম তা বাতিল করতে বাধ্য হলাম।’

মেসিকে দলে টানতে পারার ব্যর্থতায় পিকেকেও হারায় আর্সেনাল। খুব ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ছয় মাস পরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার।

আইনি জটিলতায় মেসিকে আনতে না পারলেও পর্তুগিজ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে আর্সেনালে আনা বেশ সহজই ছিল। এক্ষেত্রে ক্লাবের ইচ্ছার বড় দোষ দেখছেন ৫০ বছর বয়সী ক্যাগিগাও। তার ভীষণ জোর সত্ত্বেও আর্সেনালের ঢিলেমিতে ২০০৩ সালে চোখের সামনে দিয়ে স্পোর্টিং সিপি থেকে রোনালদোকে দলে টানেন ম্যানইউ কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন।

‘আমরা রোনালদোর ব্যাপারে খুব কাছে চলে গিয়েছিলাম। সে এমনই এক খেলোয়াড় ছিল, যাকে যুব দল থেকেই অনেকে চোখে চোখে রাখত।’

‘আমাদের খুব শক্তিশালী একটা যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু একটা খেলোয়াড়কে নিয়ে চিন্তা করা আর তাকে দলে আনা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। বাজারে কার কেমন চাহিদা আমরা সেটা বুঝতে পারতাম। অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর তো একটা ব্যাপার আছে। তথ্য যাচাই আর কোথায় কী হচ্ছে তা জানতে হলে খুব দক্ষ হওয়ারও প্রয়োজন আছে।’