চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মেলবোর্নের কৃষ্ণা কুটিরে অন্য আমেজের দুর্গোৎসব

প্রবাসীর দুর্গাপূজা মানেই বিশাল কোনো হলরুম ভাড়া করে, মণ্ডপ বানিয়ে শ’তিন/চার মানুষের আনন্দ-যজ্ঞের আয়োজন। দেশে পাড়ার মন্দিরে মন্দিরে আয়োজিত পুজোর সাথে এর কিছুটা মিল পাওয়া যায়। প্রবাসের মাটিতে এটুকুও কিন্তু কম কিছু নয়! তবু আবেগী মানুষের মন পড়ে থাকে, বনেদি ধারায় পালিত সেই ‘বাড়ির পুজোয়’।

বিজ্ঞাপন

বাড়ির নিজস্ব পূজামণ্ডপে, দেশীয় আবহে, শয়ে শয়ে মানুষকে দুর্গোৎসবের অংশ করে ‘কৃষ্ণা কুটির’ তাই উদ্যোগ নেয় ব্যতিক্রমী এক মিলনমেলার। 
গত পাঁচ বছর যাবত মেলবোর্নে এ অনন্য আয়োজনটি করে চলেছে ‘কৃষ্ণা কুটির’। প্রবাসের প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অদ্ভূত এক জাদুবলে এ যৌথ পরিবারটি এক ভিন্নতার দুর্গোৎসব করে চলেছে ফি বছরই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে চেনা/অচেনা সকলেই তাদের কাছে পরম পূজনীয় এক অতিথি। ‘কৃষ্ণা কুটির’ এর কৃষ্ণা চক্রবর্তী মেলবোর্নের অতি পরিচিত মুখ, যাকে সকলে ‘মাসিমা’ বলেই সম্বোধন করে।

বিজ্ঞাপন

আর অজয় চক্রবর্তী যেন ‘সকলের মেসোমশাই’! উনাদের পুত্র সানি সঞ্জয়, পুত্রবধূ উর্মি ভট্টাচার্জি, কন্যা ইতিকা ইতু এবং জামাতা চন্দন তাদের কাছের কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবসহ দেবী দুর্গার মতোই দশ হাতে এবং হাসিমুখে কাজ করেন অতিথি সেবায়। 
জানা গেল, মহালয়া থেকে শুরু করে মহা দশমী পর্যন্ত এ পুজো-পালন হয় সম্পূর্ণ তিথি নক্ষত্র এবং দিনক্ষণ মেনে। সুষ্ঠুভাবে পুজোর আয়োজনের জন্য তারা পুরোহিতকেও আনেন সুদূর বাংলাদেশ থেকে।
উইকএন্ডের একটি দিনে থাকে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’র আয়োজন। এবারও ব্যতিক্রম ছিল না সে ছান্দসিক ধারাবাহিকতার। ক্ল্যাসিক্যাল নৃত্য-গীত, রবীন্দ্রসংগীত থেকে শুরু করে হালের জনপ্রিয় সিনেমার গান- কিছুই তাতে বাদ থাকে না! নৈশভোজে হরেক রকমের সুস্বাদু খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে শেষ হয় পুজোর রোজকার আয়োজন। 
‘কৃষ্ণা কুটির’ এর পক্ষ থেকে জানা যায়, তাদের অক্লান্ত এ পরিশ্রমের উদ্দেশ্য একটাই-বাঙালির আনন্দময় দুর্গোৎসবের বিরাট ঐতিহ্য যেন কেউ ভুলে না যায়! আমোদপ্রিয় বাঙালির এ আনন্দময় রীতিনীতি যেন পরবর্তী প্রজন্মেও প্রবাহিত হয়!
Bellow Post-Green View