চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মেরকেলকে ইতিহাস কতটুকু মনে রাখবে?

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর জার্মানিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে৷ এর মাধ্যমে বর্তমান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে৷

জার্মানীতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল এর ১৬ বছরের ক্ষমতার অবসান হতে যাচ্ছে। ইতিহাস মেরকেলকে কীভাবে মনে রাখবে? মেরকেল এর নেতৃত্ব কেমন ছিল?

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে মেরকেল এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

কোভান্ট্রি ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ম্যাট কভোরট্রাপ মনে করেন, মেরকেল এর শাসনামলে রাজনীতির চেয়ে নীতিমালার উপর গুরুত্ব বেশী দেয়া হয়েছে। সে কারণে তার শাসনের নীতিমালাগুলোই আলোচনায় ছিল। মেরকেলকে নিয়ে ম্যাট কভোরট্রাপ এর বই ‘এঞ্জেলা মেরকেল: ইউরোপের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা’।

ম্যাট কভোরট্রাপ বলেন, জার্মানীর রাজনীতি দীর্ঘদিন ছিল পুরুষ নিয়ন্ত্রিত। মেরকেল এর শাসনামলে সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এক্ষেত্রে সমস্যা হলো, নীতিমালাভিত্তিক শাষণ ব্যবস্থা পুরোপুরি যান্ত্রিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক হয়ে পড়েছে। মেরকেল নিজে একজন পদার্থবিদ। তিনি পিএইচডি করেছেন ‘কোয়ান্টাম কেমেস্ট্রি’ তে। সে কারণে তার মতো একজন ব্যক্তি চলেছেন পুরোপুরি বাস্তবতার নিরিখে। দিনে দিনে জার্মানীর রাজনীতি তথা বিশ্ব রাজনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।

বারমিংহাম ইউনিভারসিটির ‘জার্মান এন্ড ইউরোপিয়ান পলিটিকস’ বিষয়ের লেকচারার শারলোট গ্যালপিন বলেন, ফোর্বস ম্যাগাজিন এর জরিপে টানা ১০ বছর বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। জার্মানির নতুন একটি প্রজন্ম তাদের জীবদ্দশায় নারী নেতৃত্বের বাইরে কিছু দেখেনি।

মেরকেলের অবস্থান মানে নারীদের প্রতিনিধিত্বের প্রতীক। বিভিন্ন সেক্টরে নারী নের্তৃত্বকে সামনে নিয়ে আসার পেছনেও মেরকেল। উদাহরণ হিসেবে উরসালা ভন ডি লিয়েন এর কথা বলা যায়। জার্মানী প্রথম নারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেরকেল তাকেই বেছে নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তারপরও প্রতীকী নারী প্রতিনিধিত্ব একটি সমাজে রাতারাতি ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে না। বিশেষ করে বহু বর্ণের নারী এবং সমলিঙ্গভিত্তিক সম্পর্কের সমাজে কেবল নারী নেতৃত্ব রাতারাতি পরিবর্তন আনতে পারে না।

জার্মানীতে লিঙ্গ বিষয়ক উন্মাদনা বিরোধী অবস্থান এবং মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। তারপরও লিঙ্গসমাতাভিত্তিক ভাষা বিনির্মাণের বিষয়টি নির্বাচনী আলোচনায় এসেছে। যে বিষয়ে মেরকেল সোচ্চার ছিলেন না।

ম্যানজেইম ইউনিভার্সিটির ‘পলিটিক্যাল সায়েন্স এন্ড পলিটিক্যাল সোসিওলজি’ বিভাগের অধ্যাপক ড. রুডিগার শ্মিট-ব্যাক বলেছেন, মেরকেল এর নীতিমালা আধুনিকায়ন এবং অতীত হাঁটার একটা মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। সমলিঙ্গের বিয়ে, নিউক্লিয়ার এনার্জির দিকে ধাবিত হওয়া এবং অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর অবস্থানকে আধুনিকতার প্রতীক বলতে হয়। একজন খ্রিস্টান গণতান্ত্রির চ্যান্সেলরের কাছ থেকে এত কিছু আশা করা যায় না। কিন্তু জনমিতির পরিবর্তন, জলবায়ু নীতিমালা এমনকি ডিজিটালাইজেশনে জার্মানী কিন্তু পেছনেই পড়ে আছে।

অ্যাঙ্গেলা মেরকেল থেকে সরে দাঁড়ানোর পর কিন্তু জার্মানীর রাজনীতিই অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মেরকেল এর শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো:
তার শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ২০০৮ সালে ইউরো’র অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে ঘুরে দাঁড়ানো, বলেছেন ম্যাট।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ট্রাম্পের শাসনামল। ট্রাম্পের আগের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাই মূলত মেরকেলকে চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতা নেয়ার বিষয়ে রাজি করান। এর পরপরই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। জার্মানিতে উড়ে গিয়ে ওবামা মেরকেল এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মেরকেল এর শাসনামলকে মূলত সঙ্কট নিরসনের শাসন বলে বিবেচনা করা হয়। মেরকেল মোট চার জন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে মোকাবেলা করেছেন। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলেছেন।

মেরকেল এর শাসনামলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলে অভিবাসী সঙ্কট মোকাবেলা। তিনি অভিবাসীদের জন্য জার্মানীর সীমান্ত খুলে দিয়েছেন। ২০১৫ সালে প্রায় দশ লাখ অভিবাসীকে জার্মানীতে আশ্রয় দিয়েছেন।