চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মেধা ও কর্ম দিয়ে প্রজন্মের প্রতিনিধি হয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর

এন্ড্রু কিশোর এবং আমার দুজনের জন্মস্থান রাজশাহীতে। যেখানে তিনি গান শিখেছেন আমিও সেখানে গান শিখেছি। পরোক্ষভাবে একই ওস্তাদ আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে দুজনেই গান শিখেছি। আমরা দুজনেই রাজশাহী গভর্মেন্ট কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছি। কাজেই তার সাথে আমার কতটা আন্তরিকতার ঋদ্ধতা এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এন্ড্রু কিশোর এর সাথে লম্বা পরিচয়ে আমি দেখেছি তিনি সংগীতে একেবারেই অনুরক্ত নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। অনেকেই ব্যস্ততার কারণে সকালে উঠে তানপুরা নিয়ে রেওয়াজ করতে ভুলে যায় কিন্তু এন্ড্রু কিশোর যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন দেশের বাইরে থাকলেও তিনি রেওয়াজ করতে ভুলতেন না। আরো একটা বিষয় দেখেছি এন্ড্রু কিশোর গায়ে পড়ে কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে যেত না। তার আরও একটা গুণ ছিল সিনিয়রদের দেখলেই পায়ে ধরে সালাম করতেন তার ছোটদের স্নেহ করতেন।

বিজ্ঞাপন

ফিল্ম সিংকিং সেন্ডিং বলে একটা ব্যাপার যেটা এন্ড্রু কিশোর পরিপূর্ণভাবে নিজেকে সফল করেছিলেন। সিনেমার গানে সুর-তাল-লয় গাইতে তার তুলনা নেই। গত ৪৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি। তার আধ্যাত্মিক গানে আবেগ থাকতো, রোমান্টিক গানে মনে প্রেম থাকতো, দুঃখের গানে মন খারাপ হতো। ফিল্মের গান করলে অনেক কিছু থেকে বেরিয়ে যায় কিন্তু এন্ড্রু কিশোর কখনো বেসুরো গান করেননি। এভোমিটারে তার গানের গলা সমান্তরাল পেয়েছি।

বিজ্ঞাপন

আবদুল জব্বার, সৈয়দ আবদুল হাদী, মাহামুদুন নবী ভাইয়েরা অনেক কষ্টে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করেছিলেন। সেটাকে জাগিয়ে রাখা খুব কঠিন। এন্ড্রু কিশোর তার মেধা ও কর্ম দিয়ে তাদের পরের প্রজন্মের প্রতিনিধি হয়েছেন।

স্মৃতিচারণ: রফিকুল আলম, সংগীতশিল্পী