চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মেঘদল নামে কোনো ব্যান্ড আর নাও থাকতে পারে’

‘মেঘদল’ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন দলটির সদস্য রাশিদ শরীফ শোয়েব…

শহুরে তরুণদের কাছে ক্রেজ ‘মেঘদল’। পরাবাস্তব শহর নগরের কথা তাদের গানের পরতে পরতে। নেফারতিতি, আকাশ মেঘে ঢাকা, নির্বাণ, না বলা ফুল, তবু, শহুরে জোনাক, পাথুরে দেবী ও এসো আমার শহরের মতো বেশকিছু গান তাদের ঝুলিতে।

নতুন করে আলোচনায় ‘ধীর স্থির’ নীতিতে চলা এই দলটি। না, নতুন কোনো গানের খবর নিয়ে নয় বরং শ্রোতা ভক্তদের জন্য বিষণ্ণতার বার্তা নিয়ে এলো মেঘদল। দলের অন্যতম সদস্য ও গিটারিস্ট রাশিদ শরীফ শোয়েব দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের ফেসবুক থেকে তিনি জানান, ‘‘তিন মাস আগে মেঘদল ছেড়ে দিয়েছি। যে ভালোবাসার কারণে দীর্ঘ ১৮ বছর মেঘদল করেছি, গত বেশ কিছুদিন যাবত বিভিন্ন কারণে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। সে কারণেই সরে আসা।’’

পারস্পরিক ‘ভালোবাসা নষ্ট হয়ে যাওয়া’র কথা বললেও শোয়েব দলের বাকি সদস্য ও দলটির ভক্ত অনুরাগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘‘ব্যান্ড ছাড়াটা ইদানিং একটা ‘হটকেক’ বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেঘদলের ভক্তরা নিশ্চয় এমনটা করবেন না। আমি মেঘদলের ভক্তদেরকে নিয়ে গর্ব করি, মেঘদলের প্রতি আপনাদের ভালবাসাকে স্যালুট জানাই। মেঘদল সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনেক শুভকামনা, এতোগুলো বছরের অসংখ্য স্মৃতি সারাজীবন আগলে রাখবো।’

শোয়েবের দল ছাড়ার ঘোষণা নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন ‘মেঘদল’ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী শিবু কুমার শীল:

তিন মাস আগে ‘মেঘদল’ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শোয়েব। অফিশিয়ালি দল কেন ঘোষণা দেয়নি?
শোয়েব ‘মেঘদল’ ছাড়ার সিদ্ধান্ত আমাদেরকে জানানোর পর আমরা বেশ কয়েকবার তার সাথে বসেছিলাম। মিটিং করেছি। দুর্ভাগ্যবশত কোনো সমাধান হয়নি। করোনাকালীন এই সময়টাতে কোনকিছুই রাতারাতি সিদ্ধান্ত নেয়ার নয় বলে আমরা মনে করেছি। শুধু কোভিডের জন্য না, যেকোনো সিদ্ধান্ত আসলে রাতারাতি নেয়ার কিছু নেই। সময় দিতে হয়। দেখতে হয়। সে কারণেই ‘মেঘদল’ থেকে অফিশিয়ালি শোয়েবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর বিষয়ে আমরা ভাবি নি। ঘোষণা দেয়ার চেয়ে আমরা তাকে দলে ফিরিয়ে নিতে বেশি উদগ্রিব ছিলাম। চেষ্টা করেছি।

দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত তিনি কেন নিলেন?
যে ভাবনার জন্যই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিন না কেন, তার সেই ভাবনাকে আমরা রেসপেক্ট করি। কিন্তু তিনি যেহেতু আমাদের সাথে বহুদিন ধরে রয়েছেন, তাকে আমরা ছাড়তে চাইনি! ধরুন আমরা পাঁচজন একটা দলে রয়েছি, তার মধ্যে চারজন একটা বিষয়ে একমত পোষণ করে, বাকি একজন অন্য আরেকটা মত পোষণ করে- সে ক্ষেত্রে সেই একজনকে বোঝানো জরুরি হয়ে পড়ে। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করেছি শেষ পর্যন্ত, কিন্তু আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমার মনে হয় যে ওর মত করে মিউজিকটা শুরু করতে চায়, তো সেটা খারাপ না। আমরা তার এই ধারণাটাকে ওয়েলকাম জানাই, এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, মেঘদল করতে হবে এরকম কোন কথা নাই, মিউজিক করাটাই সবচেয়ে বড় কথা। ইভেন আমি আজকে মেঘদল করছি, কালকে অন্য একটা প্লাটফর্মের জন্য চিন্তা করতেই পারি। এগুলো আমাদের মধ্যে ওপেন সিক্রেট ছিল। আমরা কোনো একটা দল করছি বলে দলের মতো করে ভাবতে হবে সবসময়, এমন নাও হতে পারেে। দলের জন্য নিজের সমস্ত কিছু বিসর্জন দিতে হবে এমন না। তবে শোয়েব থাকলে মেঘদল আরো সমৃদ্ধ হতো। আরো দারুণভাবে হয়তো মেঘদল এগিয়ে যেত। তাকে ছাড়া মেঘদল কেমন হবে সেটা সময়ই বলে দেবে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে বলি, তার প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। মেঘদলের বাইরে গিয়ে তার সাথে বহু এক্টিভিটিস, আড্ডা দেই এবং অন্যান্য কাজও করি। ওইসব কাজও আমাদের এভাবে আগের মতোই চলবে। তার মেঘদল ছেড়ে যাওয়াটাকে আমি একজন শিল্পীর নতুন একটা অভিযাত্রা বলে মনে করি। মেঘদলের সঙ্গে পথচলায় তার জার্নিটা এখানে এসে আরেক দিকে মোড় নিল। নতুন জার্নিকে আমি স্বাগত জানাই।

শোয়েবের জায়গায় নতুন কাউকে নিয়ে ‘মেঘদল’ শুরুর কথা ভাবছেন কিনা?
না না। আমরা সেটা ভাববো কীভাবে, গত তিনমাস আমরা তাকে দলে ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাকে ছাড়া মেঘদল চলবে কিনা, সেটা ঠিক করবে মেঘদলের আরও যারা সদস্য আছেন- সবাই মিলে। এমনও হতে পারে মেঘদল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মেঘদল নামে কোনো ব্যান্ড আর নাও থাকতে পারে, আবার এমনও হতে পারে সবার সম্মতিক্রমে যেভাবে চায় সেভাবে নতুন করে শুরু। তবে আমরা এখনই সেটা ভাবছি না।

 

 

 

‘প্রতিবাদ বা ভালোবাসা কোনটাই যেন এ শহরে নেই’