চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মৃত সৈন্যদের লাশ উদ্ধারে পাকিস্তান সেনাদের সাদা পতাকা প্রদর্শন

সীমান্তের ওপারে থাকা ভারতীয় সেনাদের গুলি থেকে বাঁচতে সাদা পতাকা দেখিয়ে সহযোদ্ধাদের মৃতদেহ নিয়ন্ত্রণ রেখা (লাইন অব কন্ট্রোল) থেকে তুলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে পাকিস্তান সেনাদের।  আর এসময়  ভারতীয় সেনারা মৃতদেহ দুটির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কোনো রকম গুলি করেনি বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

ভারতীয় এই গণমাধ্যমটি বলছে, কয়েকদিন আগে নিয়ন্ত্রণ রেখায় ফের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গুলি চালায় পাকিস্তানি সেনারা। এরপরেই পাল্টা গুলি চালালে মারা যায় দুই পাকিস্তানি সেনা সদস্য। এ ঘটনার প্রায় দুদিন পর পাকিস্তান সেনারা একটি পাহাড়ের পেছন থেকে বেরিয়ে এসে তাদের সহকর্মীদের লাশ উদ্ধার করার জন্য সাদা পতাকা প্রদর্শন করে।

বিজ্ঞাপন

সাদা পতাকা প্রদর্শনের কারণ হলো, যেন ভারতীয় সেনারা ওপার থেকে পাল্টা গুলি না চালায়। এসময় ভারতীয় সেনারা গুলি চালানো থেকে বিরত থাকার ইঙ্গিত দিলে তারা মৃতদেহ দুটি তুলে নিয়ে যায়।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, এসময় মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) হাজিপুর সেক্টরের একটি পাহাড়ের পাদদেশের ওপারে চলে যায় পাকিস্তানি সেনারা।

বিজ্ঞাপন

গত ১০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় প্রতিশোধ নিতে ভারতের দিক থেকেও গুলি চালানো হয়।  সেসময় সিপাহী গোলাম রসুল নামে এক পাকিস্তানি সৈন্যকে ভারতীয় সেনা গুলি করে হত্যা করে। এরপরেই পাকিস্তান তাদের সেনার লাশ উদ্ধারের চেষ্টায় ঘন ঘন গুলি চালানো শুরু করে। কিন্তু তা পাকিস্তানের জন্য কাল হয়! ভারতীয় সেনার গুলিতে প্রাণ হারায় তাদের আরও এক সেনা সদস্য।

জানা যায়, টানা দুদিন গুলি চালানোর পর তাদের আরও এক সহকর্মীর মৃত্যু হওয়ার পরে হুঁশ ফেরে।  শেষে আক্রমণাত্মক উপায়ে পেরে না উঠে সাদা পতাকা হাতে নিয়ে নিজেদের সহকর্মীরে লাশ উদ্ধার করতে আসে তারা।

এনডিটিভি বলছে, ভারতীয় সেনাদের চালানো গুলিতে নিহত দুই পাকিস্তানি সেনা মূলত পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত পাঞ্জাবের বাসিন্দা। এর আগে ৩০-৩১ জুলাই কেরান সেক্টরে ভারতীয় সেনার গুলিতে নিহত প্রায় সাত সেনা ও সন্ত্রাসবাদীদের লাশ উদ্ধার করার চেষ্টা করেনি পাকিস্তানি বাহিনী।

ধারণা করা হচ্ছে ওই লড়াইয়ে নিহতরা পাকিস্তানি পাঞ্জাবের নয়, তারা ছিল পাকিস্তানের নর্দান লাইট ইনফ্যান্ট্রি (এনএলআই) বা কাশ্মীরি বংশোদ্ভূত। অভিযোগ রয়েছে, পাঞ্জাবি মুসলিম মারা গেলে কেবল পাকিস্তান জেগে ওঠে।  অন্য কোনও পাক সেনা মারা গেলে তাদের খুব বেশি যায় আসে না। কিন্তু পাঞ্জাবি মুসলিমদের ক্ষেত্রে সেটি হয় না।

Bellow Post-Green View