চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মৃত্যুর ভয়াল মাইলফলক

করোনায় দেশে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল গত বছরের ১৮ মার্চ। এর একবছর পর সেই মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ১০ হাজারে। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। তারপর থেকে নাটকীয় নানা পরিসংখ্যানের মধ্যে দিয়ে গিয়ে দেশ আজকে এক ভয়াল মাইলফলকে পৌঁছালো।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) করোনায় আক্রান্ত আরও ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে মোট ১০ হাজার ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৪ হাজার ১৯২ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৭ লাখ ৭ হাজার ৩৬২।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের জুন থেকে আগস্ট মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র। মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছরের মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে। এই অবস্থায় সরকার সংক্রমণ রোধে সারাদেশে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

নেতিবাচক নানা ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আছে বেশ কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি। ভ্যাকসিন কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে। এপর্যন্ত অর্ধকোটির বেশি মানুষ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন, আর ৬ লাখের বেশি দ্বিতীয় ডোজ নিতে পেরেছেন। এছাড়া সুস্থতার হারও অনেক বেশি। সবমিলিয়ে এই করোনা জাতিকে নানামুখী পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্যমতে, করোনাভাইরাস এতো সহজে পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে না। অন্যান্য ভাইরাসের মতো এটি নানারুপে নানাসময়ে মানুষের জীবনে থেকে যাবে আরও ৪/৫ বছর। তাহলে কী উপায়? উপায় সেই পুরাতন কিছু বিষয়। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, মাস্ক পরা, হাত-মুখ সাবান স্যানিটাইজার দিয়ে পরিস্কার করা। সবার সচেতনতায় করোনা হয়তো আস্তে আস্তে মানুষের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে অভ্যাসে-ভ্যাকসিনের প্রভাবে।

বিজ্ঞাপন