চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মুহিবুল্লাহ হত্যায় ‘জড়িত’ কয়েকজনের নাম জানালেন তার ছোটভাই

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধীরাই রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যা করেছে দাবি করে নিহতের ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ ঘটনার সঙ্গে ‘জড়িত’ কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছেন।

তার দাবি, প্রত্যাবাসনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি গ্রুপ মুহিবুল্লাহকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। সেই প্রত্যাবাসন বিরোধী গ্রুপের ২০ থেকে ২১ জন লোক অফিসে এসে আলোচনার এক পর্যায়ে গুলি করে হত্যা করে মুহিবুল্লাহকে।

হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। এমনকি জড়িত কেউই ধরা পড়েনি। তবে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ মৃতদেহ এখনো কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। জানাজা কখন অথবা দাফন কখন করা হবে- সে বিষয়ে কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

তার ছোটভাই হাবিবুল্লাহ কয়েকটি গণমাধ্যমে সন্দেহভাজন কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি গ্রুপ আমার ভাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। সে গ্রুপ প্রত্যাবাসন বিরোধী। ২০ থেকে ২১ জন লোক আমার ভাইয়ের অফিসে আসে। তারা আমেরিকা-বাংলাদেশ-মিয়ানমার এই তিন দেশের বিষয়ে ও প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করে।’

‘‘আমেরিকাসহ বিশ্বসম্প্রদায় এখন একমত হয়েছে আমাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিতে। আমরাও প্রস্তুত রয়েছি স্বদেশে ফিরে যেতে। এ কথা বলার পরই বন্দুকধারীরা আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করে। প্রত্যাবাসনের কারণে দীর্ঘদিন থেকে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।’’

বিজ্ঞাপন

হাবিবুল্লাহ আরও দাবি করেন, ‘ঘাতকদের মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। আমার ভাইকে পরপর চারটি গুলি করে। গুলির শব্দ শুনে আমরা সবাই দৌড়ে যাই। এরপর তারা পালিয়ে যায়। এশারের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে গিয়ে তিনি অফিসে বসে ছিলেন। এরপর এ ঘটনা ঘটে।’

‘‘আমরা দুই ভাই, একসাথে এশারের নামাজ আদায় করেছি। এরপর আমার ভাই অফিসে যায়, আর আমি ভাত খেতে যাই বাসায়। এর মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে, তাদের মধ্যে আমি যাদেরকে দেখেছি তারা হলেন, মাস্টার আব্দুর রহিম, মোরশেদ, নাগো, আরেকজন কালো করে মাথায় লম্বা চুল। সবার হাতে অস্ত্র ছিল।’’

এ ঘটনার পর সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নিহত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে নানাভাবে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন বলে রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানিয়েছেন।

দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা আমাদের সম্পদকে হারিয়ে ফেলেছি। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, নিহত মুহিবুল্লার মৃতদেহ সদর হাসপাতালে রয়েছে। এখনো মামলা হয়নি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে এ ঘটনার পর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় আলোচনার প্রধান বিষয় এখন নিহত মুহিবুল্লাহ। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সর্বত্র।

বিজ্ঞাপন