চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড ঘিরে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে

গত সপ্তাহে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে দেশে বিদেশে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দীর্ঘ কয়েকবছর হলো দেশে থাকা লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পগুলিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মামলা হয়েছে ওই ঘটনার পর পরই, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছে।

সরকারও বিষয়টি সার্বিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ড ঘিরে কক্সবাজারে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। সরকার সেখানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটতে দেবে না। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আইনসম্মতভাবে আন্দোলন করছিলেন। কেউ কেউ হয়তো এটা পছন্দ করেননি। হয়তো সেজন্য তাকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অনেকে সন্দেহ করছেন। এছাড়া মিয়ানমারের কোনো কোনো গোষ্ঠী ও ক্যাম্পে থাকা নানা পক্ষ-বিপক্ষ জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়গুলো নিয়ে আরও উন্নত ও জোরালো তদন্ত প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মাদক ব্যবসা ও মানবপাচারের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেইসঙ্গে খুন, ছিনতাই ও অপহরণ বেড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এখানে অস্ত্র আসার তথ্য রয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ। সীমান্তে নজরদারি কড়াকড়ি করেও অনেকসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

করোনাকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি অনেকটা থেমে ছিল সঙ্গত পরিস্থিতিতে। বর্তমান সময়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার আবার সক্রিয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিয়ে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ব্যবসা করার নেতিবাচক প্রবৃত্তি নিয়েও কথা বলেছেন দেশে ফিরে। সবমিলিয়ে ওই ধারা বজায় থাকবে বলে আমাদের আশাবাদ।

আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, মুহিবুল্লাহ হত্যা বিষয়ে কতিপয় মহল নানা ক্ষতিকর ও তথ্যসূত্র ছাড়া নানা তথ্য ছড়ানো শুরু করেছে, যা মোটেও কাম্য নয়। ইতিমধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে ওই ঘটনায়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের প্রত্যাশা, এই হত্যা বিষয়ে তদন্ত ও বিচারকার্যের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে এবং এই ধরণের ঘটনা ভবিষ্যতে ঘটবে না।